এআই বিভ্রাটে ভোটার তালিকায় গরমিল: সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের জেল চাইল তৃণমূল

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা যাচাই বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলে। তাঁর অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার মিল খুঁজতে ত্রুটিপূর্ণ এআই সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ‘অমিত’ নাম ‘O-mit’ হয়ে যাওয়ার মতো বানান বিভ্রাটে প্রায় ১.৬৭ কোটি ভোটার সন্দেহের তালিকায় পড়েছেন এবং ৯৫ লক্ষ মানুষকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে। এই চরম অব্যবস্থাপনার দায়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের জেল হওয়া উচিত বলে দাবি তুলেছেন তিনি।
সাংসদ আরও অভিযোগ করেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের ‘মাইক্রো-অবজার্ভার’ নিয়োগ করে ভোটার বাদ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আদালত নির্দেশ দেয় যে, কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের বদলে জেলা বিচারকদের দিয়ে শুনানি করাতে হবে। পাশাপাশি ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের বিচারকদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এত বিপুল সংখ্যক শুনানি সম্পন্ন করা কার্যত আসাম্ভব এবং এর জন্য অন্তত তিন মাস সময় প্রয়োজন।
বর্তমানে প্রায় ৮০ লক্ষ বৈধ ভোটারের ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। সাকেত গোখলের মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কয়েক দিনের মধ্যে এই শুনানি শেষ করার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এই বিশাল আইনি ও প্রযুক্তিগত জটিলতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।