ভাঙড়ে রাসায়নিক ড্রাম ফেটে ঝলসে যাওয়া আরও এক শিশুর মৃত্যু

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে রাস্তা মেরামতির কাজে রাখা কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম ফেটে যে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছিল, তাতে শোকের ছায়া আরও গভীর হলো। শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া আট বছরের শিশু সাদিকুল আহমেদ বুধবার ভোরে এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করল।
ঘটনার নেপথ্যে গাফিলতি নাকি নিছক দুর্ঘটনা
ক্যানিং পূর্ব বিধানসভার ঘটকপুকুর থেকে মধ্য খড়গাছি এলাকায় রাস্তার কাজ চলার সময় একটি ২০০ লিটারের লাইট ডিজেল অয়েল (এলডিও) ভর্তি ড্রাম বিকট শব্দে ফেটে যায়। পিচ গলানোর কাজে ব্যবহৃত এই অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিকের ড্রামটির পাশেই খেলা করছিল চার শিশু। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে সামিউল, রায়হান, রিয়াজ ও সাদিকুলকে।
তদন্তে পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন উঠছে, জনবহুল এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়াই কেন এভাবে রাসায়নিকের ড্রাম ফেলে রাখা হয়েছিল? কলকাতা পুলিশের আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটল। প্রচণ্ড গরমের প্রভাবে ড্রামের ভেতরে গ্যাস তৈরি হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আগুন লেগেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি
বিস্ফোরণে গুরুতর আহত বাকি দুই শিশু এখনও হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাদের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সাদিকুলের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের বারুদও জমছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঠিকাদার সংস্থার চরম গাফিলতির কারণেই আজ এই নিষ্পাপ প্রাণগুলি অকালে ঝরে যাচ্ছে।