মহিলাদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কেন্দ্রের! বিনামূল্যে মিলবে প্রাণদায়ী এইচপিভি টিকা

মহিলাদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার রুখতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ কেন্দ্রের! বিনামূল্যে মিলবে প্রাণদায়ী এইচপিভি টিকা

দেশে ক্রমশ থাবা চওড়া করছে সাইলেন্ট কিলার জরায়ুমুখ ক্যান্সার। প্রতি বছর হাজার হাজার মহিলার প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই মরণব্যাধি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামছে কেন্দ্রীয় সরকার। মহিলাদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী ঘোষণা করে কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এইচপিভি (HPV) বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস টিকাকরণ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

কেন এই টিকাকরণ কর্মসূচি এত গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, ভারতে মহিলাদের ক্যান্সারের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ হলো জরায়ুমুখ ক্যান্সার। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হন এবং প্রাণ হারান প্রায় ৪২ হাজার মানুষ। দীর্ঘমেয়াদী এইচপিভি সংক্রমণের কারণেই মূলত এই মারণ রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুপারিশ মেনেই সরকার এই সিঙ্গল ডোজ ‘কোয়াড্রিভ্যালেন্ট এইচপিভি’ ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কীভাবে কাজ করবে এই ভ্যাকসিন

বাজারে আসা এই নতুন ভ্যাকসিনটি মূলত এইচপিভি ভাইরাসের ১৬ এবং ১৮ নম্বর স্ট্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই করবে, যা জরায়ু ক্যান্সারের প্রধান উৎস। এছাড়া এটি ৬ এবং ১১ নম্বর স্ট্রেন থেকেও সুরক্ষা দেয়, যা জেনিটাল ওয়ার্টসের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১৪ বছর বয়সের মধ্যে এই টিকা দেওয়া হলে কিশোরীদের শরীরে আগেভাগেই শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনতে পারে।

সুরক্ষা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

অনেকের মনেই টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকে। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করেছেন যে, এই এইচপিভি টিকা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইনজেকশন দেওয়ার জায়গায় সামান্য ব্যথা, লালচে ভাব বা হালকা জ্বর ছাড়া বড় কোনো জটিলতার আশঙ্কা নেই। সরকারি উদ্যোগে এই বহুমূল্য টিকা বিনামূল্যে পাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা যেমন কমবে, তেমনই সুরক্ষিত হবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

শুধুমাত্র জরায়ুমুখ ক্যান্সার নয়, মিলবে বহুমুখী সুরক্ষা

এই টিকা শুধু জরায়ুমুখ ক্যান্সারই নয়, বরং যোনি, ভলভা এবং মলদ্বারের ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকেও রক্ষা করে। অনেক সময় শরীরে এইচপিভি সংক্রমণের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, ফলে অজান্তেই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। সেই ক্ষেত্রে এই টিকাকরণই হলো দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার একমাত্র চাবিকাঠি। খুব শীঘ্রই সারা দেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *