ইয়াদব জি কি লাভ স্টোরি মুক্তির পথ প্রশস্ত, সিনেমার নাম বদলের আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

বিতর্কিত সিনেমা ‘ইয়াদব জি কি লাভ স্টোরি’ নিয়ে অবশেষে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সিনেমাটির নাম পরিবর্তন বা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘বিশ্ব ইয়াদব পরিষদ’। তবে বুধবার বিচারপতি বি.ভি. নাগারথনা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়ানের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন সাফ খারিজ করে দিয়ে জানিয়ে দিল, এই সিনেমার টাইটেলে আপত্তিকর বা অবমাননাকর কিছুই নেই।
আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং রায়
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, শুধুমাত্র ‘ইয়াদব’ শব্দটি ব্যবহার করার অর্থ এই নয় যে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ছোট করা হচ্ছে। বিচারপতি নাগারথনা পর্যবেক্ষণ করেন, সিনেমার শিরোনামে এমন কোনো বিশেষণ বা শব্দ ব্যবহার করা হয়নি যা ইয়াদব সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। আবেদনকারীর দাবি ছিল যে, এই ছবিটির মাধ্যমে সমাজে ইয়াদবদের ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ মামলার সঙ্গে তুলনা
শুনানি চলাকালীন আবেদনকারী পক্ষ পুরনো একটি মামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন যেখানে ‘ঘুষখোর পণ্ডিত’ সিনেমাটির নাম পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই দুই পরিস্থিতির পার্থক্য বুঝিয়ে দিয়ে বলে:
- ‘ঘুষখোর’ শব্দটির অর্থ হলো দুর্নীতিগ্রস্ত, যা একটি সম্প্রদায়ের নামের সঙ্গে জুড়ে দিলে তা নেতিবাচক অর্থ বহন করে।
- কিন্তু ‘ইয়াদব জি কি লাভ স্টোরি’ নামের মধ্যে এমন কোনো নেতিবাচক শব্দ নেই যা সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাক-স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।
আবেদনকারীর অভিযোগ কী ছিল
আবেদনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই সিনেমাটি ইয়াদব সম্প্রদায়ের সম্পর্কে একটি বিশেষ স্টিরিওটাইপ বা কুসংস্কার তৈরি করতে পারে। এছাড়া সিনেমায় প্রধান মহিলা চরিত্রের চিত্রায়ন নিয়েও তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে, তারা আন্তঃধর্মীয় বা আন্তঃবর্ণ বিবাহের বিরোধী নন, তবে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের প্রচারের ধরণ গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও আদালত এই ছবিটিকে একটি ‘কাল্পনিক সৃষ্টি’ হিসেবে অভিহিত করে সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই সবুজ সংকেতের পর সিনেমাটি মুক্তি পেতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জয় হিসেবেই দেখছেন চলচ্চিত্র মহলের একাংশ।