ওপেনএআই থেকে গুগল সবাই ব্যবহার করছে এই সফটওয়্যার, বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করলেন অনিল ভুসরী

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর দাপটে কি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে প্রথাগত সফটওয়্যার শিল্প? বিনিয়োগকারীদের এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝেই এক বিস্ফোরক দাবি করলেন ওয়ার্কডে আইএনসি (Workday Inc.)-এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার অনিল ভুসরী। মঙ্গলবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে এআই কো ম্পা নিগুলো নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত মাতামাতি, সেই ওপেনএআই (OpenAI), গুগল (Google) এবং অ্যানথ্রোপিক (Anthropic)-এর মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলো আসলে তাদের নিজেদের কাজ পরিচালনার জন্য ওয়ার্কডে-র সফটওয়্যারই ব্যবহার করে।
কেন চিন্তিত বিনিয়োগকারীরা
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই টুলস আসার ফলে পে-রোল ম্যানেজমেন্ট বা এমপ্লয়ি ম্যানেজমেন্টের মতো কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যাবে। এর ফলে ওয়ার্কডে বা সেলসফোর্সের মতো কো ম্পা নিগুলোর সফটওয়্যারের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এই আতঙ্কের প্রতিফলন দেখা গেছে শেয়ার বাজারেও— চলতি বছরেই ওয়ার্কডে-র স্টকের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পড়ে গিয়েছে।
অনিল ভুসরীর কড়া জবাব
চলতি মাসের শুরুতেই পুনরায় সিইও পদে ফিরেছেন কো ম্পা নির কো-ফাউন্ডার অনিল ভুসরী। কো ম্পা নির আর্থিক রিপোর্ট পেশ করার সময় তিনি সাফ জানান, এআই-এর যুগেও ওয়ার্কডে-র গুরুত্ব কমবে না। তাঁর কথায়, “গুগল বা ওপেনএআই-এর মতো কো ম্পা নিরা আমাদের ওপর ভরসা করে কারণ আমরা সঠিক ডেটা এবং দ্রুত ট্রানজ্যাকশন প্রসেসিং নিশ্চিত করি। এআই দিয়ে কোডিং করা সহজ হতে পারে, কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ এইচআর (HR) বা ইআরপি (ERP) সিস্টেম তৈরি করতে যে নিরাপত্তা এবং আইনি বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন, তা কেবল আমাদের মতো অভিজ্ঞ প্ল্যাটফর্মই দিতে পারে।”
ইআরপি আসলে কী
এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং বা ইআরপি হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা একটি ব্যবসার সমস্ত মৌলিক কাজ— যেমন হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সাপ্লাই চেইন— একটি কেন্দ্রীয় সিস্টেমের আওতায় নিয়ে আসে। ভুসরীর দাবি অনুযায়ী, ‘ভাইব কোডিং’ বা সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এই জটিল ব্যবসায়িক পরিকাঠামো প্রতিস্থাপন করা আসাম্ভব।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে অনিল ভুসরীর এই মন্তব্য টেক দুনিয়ায় এখন আলোচনার তুঙ্গে। এখন দেখার বিষয়, বড় বড় এআই জায়ান্টদের নাম ব্যবহার করে তিনি শেয়ার বাজারের পতন রুখতে পারেন কি না।