ই-বাইক চালিয়ে মাসে হবে মোটা টাকা ইনকাম! ‘ই-বাইক দিদি’ প্রকল্পে মহিলাদের জন্য খুলল উপার্জনের নতুন দিশা

ই-বাইক চালিয়ে মাসে হবে মোটা টাকা ইনকাম! ‘ই-বাইক দিদি’ প্রকল্পে মহিলাদের জন্য খুলল উপার্জনের নতুন দিশা

দিল্লির রাস্তায় এবার দেখা যাবে মহিলা রাইডারদের দাপট। অরবিন্দ কেজরিওয়াল সরকার দেশের রাজধানীর মহিলাদের জন্য নিয়ে আসছে এক যুগান্তকারী উপহার। ‘ই-বাইক দিদি’ (e-Bike Didi) প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন দূষণমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত হবে, তেমনই মহিলারা ঘরে বসে না থেকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে এই প্রকল্পটি প্রস্তাবিত পর্যায়ে থাকলেও, খুব দ্রুতই তা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

কী এই ই-বাইক দিদি প্রকল্প এবং এর উদ্দেশ্য

দিল্লি সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো মহিলাদের নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান। এই প্রকল্পের অধীনে দিল্লির তরুণীদের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বা ই-বাইক চালানোর প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দেওয়া হবে। এটি কেবল একটি পরিবহন পরিষেবা নয়, বরং মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার একটি বড় মাধ্যম। ব্যাটারিচালিত বাইক হওয়ায় এটি পরিবেশবান্ধব এবং শহরের ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এটি নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় শুরু করা হবে এবং সাফল্য মিললে পুরো দিল্লিতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

ওলা-র‍্যাপিডো মডেলে হবে কাজ

এই প্রকল্পের কাজের ধরন হবে অনেকটা ওলা (Ola) বা র‍্যাপিডোর (Rapido) মতো। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে অনলাইনের মাধ্যমে। যাত্রীরা অ্যাপের সাহায্যে রাইড বুক করতে পারবেন এবং ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধাও থাকবে। এর ফলে মহিলারা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে ই-বাইক চালিয়ে প্রতি মাসে একটি সম্মানজনক অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

মহিলা যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা

নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই প্রকল্পে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ‘ই-বাইক দিদি’ পরিষেবায় মহিলা রাইডাররা শুধুমাত্র মহিলা যাত্রীদেরই গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। মেট্রো স্টেশন, বাস স্টপ, পর্যটন কেন্দ্র এবং দিল্লি-এনসিআরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই পরিষেবা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে অফিস বা কলেজ ফেরত মহিলাদের ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ বা মেট্রো স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার ঝক্কি ও ভয় দূর করতেই এই পরিকল্পনা।

সরকার ও বেসরকারি সংস্থার যৌথ উদ্যোগ

দিল্লি সরকার এই প্রকল্পটিকে সফল করতে বিভিন্ন রাইড-হেলিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে হাত মেলাতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) এই প্রকল্পের সম্ভাব্য পার্টনার হতে পারে। সম্প্রতি দিল্লি ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (DTTDC) ভারত ট্যাক্সির সঙ্গে একটি মউ (MoU) স্বাক্ষর করেছে। মনে করা হচ্ছে, এই পরিকাঠামো ব্যবহার করেই ‘ই-বাইক দিদি’ স্কিমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বর্তমানে সরকার এই প্রকল্পের ভাড়া নির্ধারণ, রুটের ম্যাপ এবং নিরাপত্তার খুঁটিনাটি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আর্থিক মডেল কেমন হবে, তা নিয়েও চলছে বিচার-বিবেচনা। সব ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই দিল্লির রাস্তায় হলুদ বা সবুজ হেলমেট পরা ‘ই-বাইক দিদি’দের দেখা মিলবে, যা ভারতের শহুরে পরিবহণ ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লব ঘটাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *