ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিরাট স্বস্তি
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/07/cZ1eq83jg12Qj6lFAIPn.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটাল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শীর্ষ আদালতের এক ঐতিহাসিক নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তকরণ বা তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড এখন থেকে বৈধ সহায়ক নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তবে এক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে আদালত।
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট ও সার্টিফিকেটের যুগলবন্দি
বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, জন্ম তারিখ এবং অভিভাবকের নাম প্রমাণের জন্য মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দেওয়া যাবে, তবে সেটিকে একক নথি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। অ্যাডমিট কার্ডের সঙ্গে অবশ্যই মাধ্যমিকের পাস সার্টিফিকেট বা মূল শংসাপত্র জমা দিতে হবে।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ডিএস নাইডু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে প্রামাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, আধার কার্ডের মতো অ্যাডমিট কার্ড কোনো স্বতন্ত্র বা স্বয়ংসম্পূর্ণ নথি নয়। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের বিচারব্যবস্থা মাধ্যমিক অ্যাডমিটে থাকা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কে অবগত। এটি নির্বাচন কমিশন ও যাচাইকারী আধিকারিকদের কাজ সহজ করবে।” আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মাধ্যমিকের পাস সার্টিফিকেটে জন্ম তারিখ ও পিতার নাম উল্লেখ থাকে, যা যাচাইকরণের কাজে অত্যন্ত সহায়ক।
নির্বাচন আধিকারিকদের জন্য কড়া সময়সীমা
সুপ্রিম কোর্ট তার নির্দেশে আরও জানিয়েছে যে, যে সমস্ত নথি এখনও পর্যন্ত পোর্টালে আপলোড করা হয়নি কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারির আগে জমা পড়েছে, সেই সমস্ত তথ্য আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রিসাইডিং জুডিশিয়াল অফিসারদের কাছে পাঠাতে হবে। এই দায়িত্ব পালনে ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-দের তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা
বাংলার ভোটার তালিকার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে। এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে বিচারক নিয়োগ করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।