মুসলিম ন্যাটোকে গুঁড়িয়ে দিতে নেতানিয়াহুর মাস্টারস্ট্রোক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক মহাপ্রলয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইজরায়েলের নয়া রণকৌশল। তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের প্রস্তাবিত ‘ইসলামিক ন্যাটো’র দাপট রুখতে এবার পালটা ‘ষড়ভূজ’ বা হেক্সাগন জোটের ডাক দিলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে এই সমীকরণে সবচেয়ে বড় চমক হল দিল্লির অন্তর্ভুক্তি। নিজের পরম মিত্র নরেন্দ্র মোদিকে পাশে নিয়েই এই শক্তিশালী অক্ষ তৈরির পথে হাঁটছেন নেতানিয়াহু, যা শুনে কার্যত রাতের ঘুম উড়েছে ইসলামাবাদের।
বুধবার ইজরায়েলের পক্ষ থেকে এই নতুন জোটের রূপরেখা সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। ইজরায়েলের এই প্রস্তাবিত ‘ষড়ভূজ’ জোটকে সরাসরি ‘মুসলিম বিশ্ব বিরোধী’ ষড়যন্ত্র বলে দেগে দিয়েছে শাহবাজ শরিফ সরকার। পাকিস্তানের আশঙ্কা, ভারত ও ইজরায়েলের এই কৌশলগত জোট মুসলিম দেশগুলোর সংহতির ওপর বড়সড় আঘাত হানতে পারে।
এই ইস্যুতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বুধবার পাক পার্লামেন্টে ইজরায়েলের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব পাশ করা হয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেত্রী পালওয়াশা মহম্মদ জাই খান এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, বর্তমান পাক সরকারে পিপিপি একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী শক্তি।
‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর খবর অনুযায়ী, ওই নিন্দা প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে যে ইজরায়েল এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক এবং আইনি স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে প্যালেস্তাইনের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার যে কোনো প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে ইসলামাবাদ। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলে ইজরায়েলি বিবৃতির কড়া সমালোচনা করেছে পাকিস্তান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত এই জোটে শামিল হলে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে। একদিকে যখন পাকিস্তান তার তথাকথিত ‘ইসলামিক ব্লক’ নিয়ে স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই নেতানিয়াহুর এই ‘ষড়ভূজ’ পরিকল্পনা তাদের সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের এই নতুন ভূমিকা নিয়ে মোদি সরকার চূড়ান্ত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।