নজিরবিহীন! মেয়ের বোর্ড পরীক্ষা দিতে জেলবন্দি বাবাকে ছুটি দিল হাইকোর্ট

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন বাবা, দীর্ঘ ১১ বছর ধরে রয়েছেন শ্রীঘরের চার দেয়ালের ভেতরে। কিন্তু মেয়ের জীবনের সবথেকে বড় পরীক্ষা, আর সেই সময়েই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এল আদালত। ওড়িশা হাইকোর্টের এক নজিরবিহীন মানবিক সিদ্ধান্তে ১০ মার্চের জন্য সাময়িক মুক্তি পেলেন খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি শ্রীনিবাস পাত্র।
দেশজুড়ে এখন দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার মরশুম। এর মধ্যেই ওড়িশা থেকে উঠে এল এক আবেগঘন চিত্র। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার এবং বিশেষ কিছু মুহূর্তে সন্তানের পাশে বাবার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। জানা গিয়েছে, পরীক্ষার্থী ওই ছাত্রীর পরীক্ষাকেন্দ্র বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে। বাড়িতে কেবল বৃদ্ধ ঠাকুরদা ও ঠাকুমা রয়েছেন, যাদের পক্ষে নাতনিকে প্রতিদিন পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া আসাম্ভব ছিল।
মেয়ের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। ২০১০ সালের একটি খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০২১ সাল থেকে জেল খাটছেন শ্রীনিবাস পাত্র। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবার অনুপস্থিতি মেয়েটির পড়াশোনা ও মানসিক স্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ এই পারিবারিক সংকটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ছুটি শুধুমাত্র পরীক্ষার দিনগুলোর জন্যই প্রযোজ্য। ১০ মার্চ পর্যন্ত জামিনে থাকার পর শ্রীনিবাসকে পুনরায় আত্মসমর্পণ করতে হবে। জগৎসিংপুর জেলা ও দায়রা আদালতকে দ্রুত এই নির্দেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনের কঠোর শাসনের মাঝেও এক ছাত্রীর ভবিষ্যৎ ও আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে আদালতের এই মানবিক পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ।