প্রেমিকের সামনেই তরুণীকে গণধর্ষণ ও লুটপাট, ডবল ইঞ্জিন সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে গর্জে উঠলেন সুস্মিতা দেব

প্রেমিকের সামনেই তরুণীকে গণধর্ষণ ও লুটপাট, ডবল ইঞ্জিন সরকারের নিরাপত্তা নিয়ে গর্জে উঠলেন সুস্মিতা দেব

আসামে নারী নিরাপত্তা যে কতটা তলানিতে ঠেকেছে, শিলচরের সাম্প্রতিক শিউরে ওঠা ঘটনা যেন তারই প্রমাণ দিচ্ছে। বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে খোদ শিলচর শহরে এক তরুণীকে সাতজন মিলে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুস্মিতা দেব। বিষয়টি যাতে কোনোভাবেই ধামাচাপা না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে কাছাড় জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে কড়া পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ ফেব্রুয়ারি। অভিযোগকারিণী ওই তরুণী তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে শিলচর শহরের বাইপাস রোড এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেই সময় একটি গাড়ি তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ায়। গাড়িতে থাকা সাত যুবক তাঁদের ওপর চড়াও হয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। তরুণী ও তাঁর প্রেমিক টাকা দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় চরম বচসা। অভিযোগ, এর পরেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। দুষ্কৃতীরা ওই যুবকের সামনেই তরুণীকে একের পর এক ধর্ষণ করে। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, অপরাধীরা জোরপূর্বক ওই তরুণীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনের মাধ্যমে টাকাও ট্রান্সফার করিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, শুরুতে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তেমন তৎপরতা দেখায়নি। তবে নির্যাতিতা তরুণী দু’জন অভিযুক্তকে শনাক্ত করার পর গত রবিবার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। ধৃতদের নাম নীলোৎপল দাস ও সুবল দাস। তারা দুজনেই শিলচরের আশ্রম রোড এলাকার বাসিন্দা।

তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেবের কড়া হস্তক্ষেপের পর পুলিশ প্রশাসন এখন নড়েচড়ে বসেছে। বাকি পাঁচ অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং ডবল ইঞ্জিন সরকারের নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধীরাও এখন আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *