বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর ‘কুণ্ডলী না মেলা’র অজুহাত ফৌজদারি অপরাধ: দিল্লি হাইকোর্ট

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর কুণ্ডলী বা জন্মছক না মেলার অজুহাতে বিয়ে অস্বীকার করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। সম্প্রতি এক জামিনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা কুণ্ডলী মেলেনি—এমন যুক্তি দিয়ে দায় এড়ানো সম্ভব নয় যদি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে বিয়ের আশ্বাস ছিল অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি আট বছর ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কুণ্ডলী না মেলার অজুহাত তুলে পিছিয়ে যান। এরপরই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ নম্বর ধারায় প্রতারণা ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মামলা রুজু হয়। নতুন এই আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
আদালত অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন এ ধরনের আচরণকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সব ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক অপরাধ না হলেও, শুরু থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অন্তরঙ্গতা তৈরি হলে তা আইনের আওতায় আসবে। যদিও এটি জামিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, তবে কুণ্ডলী না মেলার অজুহাত যে কোনো আইনি রক্ষাকবচ নয়, দিল্লি হাইকোর্টের এই বার্তা আইনমহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।