প্রেম ভাঙলেই কি প্ররোচনা? আত্মহত্যা মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় ঘুম ওড়াবে প্রাক্তনদের

প্রেম ভাঙলেই কি প্ররোচনা? আত্মহত্যা মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় ঘুম ওড়াবে প্রাক্তনদের

প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই কি প্রাক্তনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়? এক চাঞ্চল্যকর আত্মহত্যা মামলার শুনানিতে এই প্রশ্নেরই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর যদি কেউ চরম পথ বেছে নেন, তবে তার জন্য সরাসরি প্রাক্তন সঙ্গীকে দায়ী করা বা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দেওয়া সাজে না।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

মামলার তথ্য অনুযায়ী, মৃত তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের প্রায় আট বছরের দীর্ঘ সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কটি বেশ কিছুদিন আগেই চুকে গিয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে ওই যুবক অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করেন। কিন্তু যুবকের বিয়ের মাত্র পাঁচ দিন পরেই তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন। এই ঘটনায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়।

বিচারপতি এই মামলার পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে ধরেছেন:

  • সরাসরি প্ররোচনার অভাব: আত্মহত্যার সময় তরুণীর ঘর থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। এমনকি জীবিত থাকাকালীন তিনি ওই যুবকের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার হেনস্থার অভিযোগও দায়ের করেননি।
  • সময়ের ব্যবধান: সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া এবং আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যে যথেষ্ট সময়ের ব্যবধান ছিল। তাই বিয়ের ঠিক পরে আত্মহত্যা করলেই তাকে সরাসরি প্রাক্তন প্রেমিকের প্ররোচনা হিসেবে গণ্য করা যায় না।
  • বাস্তবতার নিরিখে বিচার: আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান সময়ে সম্পর্কের বিচ্ছেদ বা ব্রেক-আপ কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। সম্পর্কের টানাপোড়েনে কেউ যদি আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার দায় আইনিভাবে অন্য পক্ষের ওপর চাপানো কঠিন।
  • মানসিক অবস্থার গুরুত্ব: আদালত জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় মামলা টিকতে গেলে প্রমাণ করতে হবে যে অভিযুক্তের আচরণ ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে। এই ক্ষেত্রে তরুণীর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আইনি সিদ্ধান্ত

আদালত জানিয়েছে, কেবলমাত্র সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলেই কেউ আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছেন—এমন দাবি করা অবাস্তব। অভিযুক্ত যুবককে ২৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দিয়ে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, অভিযুক্তের আচরণে যদি ভুক্তভোগীর সামনে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনও বিকল্প পথ খোলা না থাকে, তবেই প্ররোচনার অভিযোগ গ্রাহ্য হবে।

এই রায় আগামী দিনে প্রেমঘটিত আত্মহত্যার মামলাগুলোর ক্ষেত্রে এক বিশেষ দিশারি হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *