ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে তোলপাড়, ডলারকে টেক্কা দিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ভারতীয় রুপি

বিশ্বজুড়ে আর্থিক অস্থিরতার মেঘ ঘনালেও ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এল স্বস্তির খবর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্ক সংক্রান্ত ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যখন বিশ্ববাজার টালমাটাল, ঠিক সেই মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তির জানান দিচ্ছে ভারতীয় মুদ্রা। বুধবার বাজার খুলতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডলারের পতন ও রুপির উত্থান
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর বিশ্ববাজারে নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসতেই শোরগোল পড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ওয়াল স্ট্রিট থেকে শুরু করে ভারতীয় দালাল স্ট্রিটেও। তবে মুদ্রাবাজারে দেখা গেছে উল্টো ছবি। বুধবার লেনদেনের শুরুতেই ডলারের তুলনায় রুপির দাম ৬ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০.৮৯ টাকায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং দেশীয় শেয়ার বাজারের ইতিবাচক সূচনাই রুপিকে এই বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
ফিনরেক্স ট্রেজারি অ্যাডভাইজার্স এলএলপি-এর ট্রেজারি প্রধান অনিল কুমার বনসালি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকেই বাজারে ডলারের চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ডলার প্রতি রুপির দাম ৯০.৯৫ টাকায় থিতু হয়েছিল। বুধবার আন্তঃব্যাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে রুপি ৯০.৯৪ টাকায় যাত্রা শুরু করলেও দ্রুত তা ৯০.৮৯-এর ঘরে পৌঁছে যায়। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, সারাদিনে টাকার বিনিময় মূল্য ৯০.৭৫ থেকে ৯১.২৫-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে।
সেনসেক্স ও নিফটির দৌড়
মুদ্রাবাজারের পাশাপাশি ভারতীয় শেয়ার বাজারেও আজ চাঙ্গাভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিএসই সেনসেক্স ৫৫৮.৭৯ পয়েন্ট লাফিয়ে পৌঁছে গেছে ৮২,৭৮৪.৭১-এর স্তরে। অন্যদিকে, নিফটি ১৫৭.০৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ২৫,৫৮১.৭০-এ অবস্থান করছে। যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ১.৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭১.৭৪ ডলার হওয়ায় কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা
বাজার চাঙ্গা থাকলেও বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) কিন্তু এখনও সাবধানী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। মঙ্গলবার তারা প্রায় ১০২.৫৩ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এই বিশাল অংকের অর্থ বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় রুপির ঊর্ধ্বমুখী গতির পথে কিছুটা বাধার সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলারের তুলনায় রুপির এই লড়াকু মানসিকতা বিনিয়োগকারীদের মনে আশার আলো দেখাচ্ছে।