শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিল আকাশপথের বিপর্যয়! ঝাড়খণ্ডের দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যুতে অনাথ দুই শিশু

স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে শেষ সম্বলটুকুও বাজি রেখেছিলেন স্ত্রী অর্চনা দেবী। গয়না বন্ধক রেখে, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে জোগাড় করেছিলেন এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের আট লক্ষ টাকা। লক্ষ্য ছিল একটাই, অগ্নিদগ্ধ স্বামীকে রাঁচি থেকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে মাঝপথেই ভেঙে পড়ল সেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। প্রাণ হারালেন দম্পতিসহ বিমানে থাকা সাতজনই।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি নিজের হোটেলেই শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হন সঞ্জয় কুমার সাঁও। শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় রাঁচির হাসপাতালে লড়াই চলছিল তাঁর। চিকিৎসার পেছনে ইতিমধ্যেই খরচ হয়ে গিয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে তড়িঘড়ি দিল্লি নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। সরকারি সাহায্য না মেলায় বাধ্য হয়েই চড়া দামে বেসরকারি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করতে হয় তাঁদের।
আকাশপথে স্বামীর জীবন ফেরার আশায় বুক বেঁধেছিলেন অর্চনা, কিন্তু মাঝপথেই সব শেষ হয়ে গেল। বাড়িতে এখন অপেক্ষা করে আছে তাঁদের দুই নাবালক সন্তান। মা-বাবাকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তাদের মাথায় চেপেছে পাহাড়প্রমাণ ঋণের বোঝা। চিকিৎসা ও বিমান ভাড়ার জন্য নেওয়া সেই লক্ষ লক্ষ টাকা কীভাবে শোধ হবে, তা নিয়ে দিশেহারা গোটা পরিবার। অসহায় শিশুদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার দায়িত্ব নিতে এখন সরকারের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পরিজনরা।