২৭ বছর পর দিল্লির ঐতিহাসিক বৈঠক, এবার পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা সব ভোট হবে একই নিয়মে

দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আসতে চলেছে এক আমূল পরিবর্তন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর দিল্লিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক এক গোলটেবিল বৈঠকে নজিরবিহীন প্রস্তাব দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার দিল্লির ভারত মণ্ডপমে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব নীলাঞ্জন শান্ডিল্য।
ভোটের আইনে আসছে বড় বদল
বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনের আইনের সঙ্গে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের আইনের একীকরণ বা সমন্বয় সাধন। জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সমস্ত স্তরের নির্বাচনের জন্য একটি অভিন্ন ও কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করা জরুরি। এর ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে ভোট পরিচালনার প্রতিটি ধাপে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় তৈরি হবে।
কেন এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ
- দীর্ঘ বিরতির অবসান: দীর্ঘ ২৭ বছর পর জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলো এক টেবিলে বসল।
- অভিন্ন ভোটার তালিকা: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) আবহে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
- বিশেষজ্ঞ কমিটি: ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল রাজ্যগুলোর দেওয়া প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখবে।
- ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
প্রতি বছর হবে বৈঠক
এদিনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে প্রতি বছর জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনগুলোর মধ্যে এই ধরনের সমন্বয় বৈঠক আয়োজিত হবে। পাশাপাশি, কমিশনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডেও এখন থেকে রাজ্যের আধিকারিকদের শামিল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। মূলত প্রযুক্তি ও আইনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের ভোট প্রক্রিয়াকে বিশ্বমানের এবং ত্রুটিমুক্ত করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।