মন্দিরের কাছে নমাজ পড়ায় যুবককে বেধড়ক মারধর, ব্যাপক উত্তেজনা

মন্দিরের কাছে নমাজ পড়ায় যুবককে বেধড়ক মারধর, ব্যাপক উত্তেজনা

উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হেনস্থার ঘটনা সামনে এসেছে। মন্দিরের নিকটবর্তী একটি ফাঁকা জমিতে নমাজ পড়ার ‘অপরাধে’ মহম্মদ শাহিদ নামে এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর এবং জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রেশম বাড়ির বাসিন্দা ৪৪ বছর বয়সী মহম্মদ শাহিদ পেশায় একজন দিনমজুর। বর্তমানে রমজান মাস চলায় তিনি রোজা রাখছিলেন। প্রতিদিনের মতো জগতপুরা এলাকায় কাজে গিয়ে দুপুর ২টো নাগাদ অত্রিয় মন্দিরের পাশের একটি খালি জায়গায় নমাজ পড়তে বসেন তিনি। অভিযোগ, সেই সময়ই একদল যুবক তাঁর ওপর চড়াও হয়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি শাহিদের গলা টিপে ধরে তাঁকে মাটিতে ফেলে দিচ্ছে এবং এলোপাথাড়ি লাথি-চড় মারছে।

জোর করে স্লোগান ও প্রাণনাশের হুমকি

আক্রান্ত শাহিদের দাবি, মারধরের সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হয়। ভিডিও রেকর্ডিং বন্ধ হওয়ার পরও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত ওই স্লোগান দিতে বাধ্য হন তিনি। শাহিদ বলেন, “আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করতে গিয়েছিলাম। কয়েকদিন ধরেই ওখানে নমাজ পড়ছিলাম, কিন্তু আচমকা এভাবে আক্রমণ করা হবে ভাবিনি।”

পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্ত

ঘটনার প্রেক্ষিতে পন্তনগর থানায় অরবিন্দ শর্মা ও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় শান্তিভঙ্গ, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং স্বেচ্ছায় আঘাত করার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এসপি জিতেন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, “আক্রান্তের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিওটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তবে মারধরের ঘটনার পাশাপাশি যে জমিতে নমাজ পড়া হচ্ছিল, তার মালিকানা নিয়েও পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *