বিতর্কের কেন্দ্রেও মমতা ম্যাজিক? ২০২৬ নির্বাচনে কি ফের দেখা যাবে ‘বিদ্রোহী’ মনোরঞ্জন বেপারীর চমক

বিতর্কের কেন্দ্রেও মমতা ম্যাজিক? ২০২৬ নির্বাচনে কি ফের দেখা যাবে ‘বিদ্রোহী’ মনোরঞ্জন বেপারীর চমক

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে শুরু করেছে আর এরই মধ্যে রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা নিয়ে যে খসড়া সামনে এসেছে, তাতে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে হুগলির বলাগড় বিধানসভা কেন্দ্রকে নিয়ে। দলীয় সূত্রের খবর, সমস্ত বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে পাশে সরিয়ে রেখে দল ফের একবার কলমযোদ্ধা তথা বিধায়ক মনোরঞ্জন বেপারীর ওপরই ভরসা রাখতে চলেছে।

বলাগড়ে কি আবার বেপারী তাস?

২০২১ সালে বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই মনোরঞ্জন বেপারী তাঁর স্পষ্টবক্তা স্বভাবের জন্য শিরোনামে ছিলেন। নিজের দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে বালি পাচার, কয়লা মাফিয়া এবং রেশন দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি ‘বলাগড় বাঁচাও’ মঞ্চ গঠন করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তাঁর এলাকায় দলের ফল আশানুরূপ না হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন তাঁর ওপর পুনরায় বাজি ধরছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগই দলের কাছে বড় সম্পদ।

কলকাতার হেভিওয়েট আসনে রদবদলের ইঙ্গিত

কলকাতার আসন বিন্যাসের ক্ষেত্রেও বড়সড় চমক থাকতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবানীপুর থেকে লড়াই করা প্রায় নিশ্চিত। এছাড়া ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা পোর্ট), অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ) এবং দেবাশিস কুমারের (রাসবিহারী) টিকিট সুরক্ষিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বর্তমান বিধায়ক তথা মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিও-র কেন্দ্র পরিবর্তন করা হতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, তাঁর জায়গায় অভিজ্ঞ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে ওই আসনে প্রার্থী করা হতে পারে।

পার্থর দুর্গে নতুন মুখ ও উত্তর ২৪ পরগনার পরিস্থিতি

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বেহালা পশ্চিমে। এক সময়ের দাপুটে মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই গড় এখন নেতৃত্বহীন। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ জেলবন্দি হওয়ায় দল সেখানে এমন একজন সিনিয়র নেতাকে খুঁজছে যাঁর ভাবমূর্তি হবে একদম স্বচ্ছ। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতেও পটপরিবর্তন নিশ্চিত। বর্তমান বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী নিজে থেকেই আর ভোটে লড়তে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন, ফলে সেখানে নতুন কোনো চমকপ্রদ মুখের এন্ট্রি হতে পারে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় স্থিতাবস্থা বনাম নতুন রণকৌশল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কসবা, যাদবপুর এবং সোনারপুরে পুরনো সৈনিকদের ওপরই আস্থা রাখতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ভাঙড় আসনটি নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করছে কালীঘাট। আইএসএফ-এর মোকাবিলা করতে সেখানে কোনো নতুন এবং আগ্রাসী মেজাজের প্রার্থীকে ময়দানে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। সব মিলিয়ে ২০২৬-এর এই রণক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন অভিজ্ঞতায় ভরসা রাখছেন, অন্যদিকে বিতর্কিত কিন্তু লড়াকু নেতাদের ওপরও আস্থা বজায় রেখে এক ভারসাম্যপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *