১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার ছক? মমতার মাস্টারস্ট্রোকে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার ছক? মমতার মাস্টারস্ট্রোকে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি

রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার সরাসরি রণংদেহি মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরের এক সভা থেকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। গণতন্ত্র রক্ষার তাগিদে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং এখন যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে আরও ৮০ লক্ষ নাম ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “যদি ২০ লক্ষ মৃত মানুষের নামও আমরা হিসেব থেকে বাদ দিই, তাও ১.২ কোটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। যাদের কাছে সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে এবং যাদের ভেরিফিকেশন হয়ে গিয়েছে, তাদেরও কেন তালিকা থেকে বাইরে রাখা হচ্ছে?” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, তখন লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের নাম না দেখে দিশেহারা হয়ে পড়বেন।

ভবানীপুরের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, তাঁর এই লড়াই কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা দলের জন্য নয়, বরং মানবিকতা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য। ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেন।

রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী এক মানবিক রূপও তুলে ধরেন। বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো পরিবারের ২১ জন সদস্যের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি, জৈন সম্প্রদায়ের জন্য মন্দির নির্মাণের জমি দেওয়ার আশ্বাস এবং আগামী ২ মার্চ নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে মহাসমারোহে হোলি মিলন উৎসব আয়োজনের ঘোষণাও করেন তিনি। তবে ভোটার তালিকা নিয়ে তাঁর এই আইনি লড়াই এখন দেশের নজর কেড়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *