শারীরিক সম্পর্কের পর কোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে বিয়েতে অস্বীকার করলে ১০ বছরের জেল হতে পারে

শারীরিক সম্পর্কের পর কোষ্ঠীর দোহাই দিয়ে বিয়েতে অস্বীকার করলে ১০ বছরের জেল হতে পারে

দিল্লি হাইকোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ‘কোষ্ঠী মিলছে না’ এমন অজুহাত দেখিয়ে পিছিয়ে আসা এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (BNS) ধারা ৬৯-এর অধীনে এই ধরনের প্রতারণাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি দীর্ঘ সময় ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন এবং শেষ মুহূর্তে ধর্মীয় বা জ্যোতিষশাস্ত্রীয় কারণ দেখিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন, তবে তাকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অপরাধের জন্য অভিযুক্তের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

মামলার প্রেক্ষাপট

প্রায় আট বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের পর এক যুবক হঠাৎই দাবি করেন যে, তাঁদের কোষ্ঠী মিলছে না, তাই তিনি বিয়ে করতে পারবেন না। নির্যাতিতার অভিযোগ ছিল, ২০১৮ সাল থেকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক রাখা হয়েছিল। বিচারপতি স্বর্ণ কান্ত শর্মার বেঞ্চ অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে জানান, ব্যক্তিগত বিশ্বাস বা কোষ্ঠীর অজুহাত দিয়ে কারও আবেগ ও শরীরের সাথে খেলা করা আইনত দণ্ডনীয়।

আদালতের এই কড়া বার্তা সেইসব ব্যক্তিদের জন্য একটি বড় সতর্কতা, যারা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণা করার চেষ্টা করেন। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, বিয়ের উদ্দেশ্য যদি প্রথম থেকেই সৎ না থাকে এবং শুধুমাত্র শারীরিক লালসা চরিতার্থ করার জন্য বিয়ের টোপ দেওয়া হয়, তবে আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *