ইজরায়েলে মোদী ম্যাজিক! ক্নেসেটে দাঁড়িয়ে হুল্লোড় আর ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ পেলেন প্রধানমন্ত্রী
দু’দিনের ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফরে গিয়ে এক অনন্য নজির গড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে প্রোটোকল ভেঙে তাঁকে স্বাগত জানান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তাঁর স্ত্রী সারা। তবে সফরের আসল চমক ছিল ইজরায়েলি সংসদ ‘ক্নেসেট’-এ। সেখানে ভাষণ দেওয়ার সময় গোটা সংসদ কক্ষ বারবার ‘মোদী মোদী’ ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে। শুধু তাই নয়, ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ককে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে মোদীকে দেওয়া হলো ইজরায়েলি সংসদের সর্বোচ্চ সম্মান— ‘স্পিকার অফ দ্য ক্নেসেট মেডেল’।
জন্মলগ্ন থেকেই ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ
ক্নেসেটে দাঁড়িয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভারত যখন আনুষ্ঠানিকভাবে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, ঠিক সেই দিনেই তাঁর জন্ম হয়েছিল। মোদী বলেন, “আমি সেই মাটিতে ফিরেছি যে মাটির প্রতি আমি বরাবরই টান অনুভব করেছি।” ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল কৌশলগত নয়, বরং তা গভীর বিশ্বাস ও অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে।
সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স ও হামাস হামলার নিন্দা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের ওপর হামাসের ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। সন্ত্রাসবাদ মানবতার শত্রু এবং এর কোনো অজুহাত হয় না।” সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি আব্রাহাম অ্যাকর্ডের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্যালেস্তাইন সমস্যা ও শান্তিবার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে মোদী বলেন, স্থায়ী শান্তির জন্য প্যালেস্তাইন সমস্যার একটি রাজনৈতিক সমাধান জরুরি। ভারত এমন সব উদ্যোগের পাশে আছে যা এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
সফর চলাকালীন মোদীর এই রাজকীয় অভ্যর্থনা এবং ইজরায়েলি সংসদে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কড়া বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।