সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ! মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সুকান্ত মজুমদার
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/03/05/LsKQrcvzIUe62gX5k5l7.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে সরগরম বাংলার রাজনীতি। এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সচিব তথা প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের বিরুদ্ধে সরব হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। মনোজ পন্থের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি তুলে বড়সড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
কী এই বিতর্ক?
কলকাতা হাইকোর্টে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে মনোজ পন্থের উপস্থিতি নিয়েই যাবতীয় বিতর্কের সূত্রপাত। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে এই প্রক্রিয়ার বৈঠকে কারা উপস্থিত থাকতে পারবেন। মনোজ পন্থ বর্তমানে মুখ্যসচিব পদে নেই, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব। ফলে এই বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এটি শীর্ষ আদালতের অবমাননা।
সুকান্ত মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে কোন ক্ষমতাবলে তিনি বৈঠকে যোগ দিলেন? তাঁর উপস্থিতি সম্পূর্ণ অবৈধ।” এই বিষয়টি নিয়ে তিনি পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
নবান্নের পাল্টা যুক্তি
রাজ্য সরকার অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর অনুমতি নিয়েই মনোজ পন্থ ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে একটি দায়িত্বশীল সরকারি পদে রয়েছেন এবং সেই পরিচয় নিয়েই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের দাবি, সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
রাজনীতির লড়াই ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ
তৃণমূল নেত্রী ডা. শশী পাঁজা বিজেপির এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই এই ধরনের ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক চাপও বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ তথ্যগত অসঙ্গতি এবং ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটারের কারণে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ৬০ লক্ষ অভিযোগ বিচার বিভাগীয় কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। সময়মতো কাজ শেষ করতে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের অনুমতিও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে এই টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।