মুখের নানা অঙ্গভঙ্গি কিংবা অদ্ভুত শব্দ করা, অনিচ্ছাকৃত এই আচরণ কি ট্যুরেট সিনড্রোমের লক্ষণ?
আমাদের চারপাশে এমন অনেক শিশু রয়েছে যারা ঘন ঘন চোখ পিটপিট করে, কাঁধ ঝাঁকায় কিংবা নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে অদ্ভুত শব্দ করে। সাধারণ মানুষের কাছে যা ‘মুদ্রাদোষ’ বলে পরিচিত, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তা আসলে ‘ট্যুরেট সিনড্রোম’ নামক একটি স্নায়বিক ব্যাধি। সম্প্রতি বাফটা-র অনুষ্ঠানে জন ডেভিডসন নামের এক ব্যক্তির আচরণে এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
ট্যুরেট সিনড্রোম কী?
এটি মূলত মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর একটি সমস্যা, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তির নিজের শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টিকস’ বলা হয়। এটি দুই ধরনের হয়ে থাকে—
১. মোটর টিকস: বারবার চোখের পলক ফেলা, কাঁধ ঝাঁকানো বা মুখভঙ্গি করা।
২. ভোকাল টিকস: গলা পরিষ্কার করা, শিস দেওয়া বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো শব্দ বারবার উচ্চারণ করা।
লক্ষণ ও আক্রান্ত হওয়ার বয়স
ট্যুরেট সিনড্রোম সাধারণত শৈশব থেকেই শুরু হয়। বয়ঃসন্ধি বা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এর ঝুঁকি কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১৬০ জন শিশুর মধ্যে অন্তত একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। এটি কোনো মানসিক বিকার বা বুদ্ধির ঘাটতি নয়; বরং উত্তেজনা, ক্লান্তি বা উদ্বেগের কারণে এই লক্ষণগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী সবাই অকথ্য ভাষা ব্যবহার করে না, মাত্র ১০-১৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এমন লক্ষণ দেখা যায়।
কেন হয় এই রোগ?
এই রোগের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন জিনগত ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যকারিতাও এর পেছনে দায়ী থাকতে পারে।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
পরিসংখ্যান বলছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা ৩-৪ গুণ বেশি। এছাড়া পরিবারে এই রোগের ইতিহাস থাকলে বা গর্ভাবস্থায় মা কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এই সিনড্রোম দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।