চ্যাটজিপিটিকে পার্সোনাল ডায়েরি বানিয়ে ফাঁস চিনা গোয়েন্দা, ডিলিট হওয়া তথ্যে ফাঁস লালফৌজের ভয়ংকর ষড়যন্ত্র

বেজিংয়ের এক দুঁদে গোয়েন্দা কর্মকর্তার সামান্য ভুলেই বিশ্বজুড়ে ফাঁস হয়ে গেল চিনের এক গোপন ও কুৎসিত অপারেশন। নিজের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং ষড়যন্ত্রের নীল নকশা ওই কর্মকর্তা লিখে রাখতেন এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির (ChatGPT) প্রম্ট বক্সে। ভাবেননি, ডিজিটাল ডায়েরির এই অভ্যাসই একদিন কাল হয়ে দাঁড়াবে। ওপেনএআই-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে চিনা দমনের সেই হাড়হিম করা তথ্য।
এআই যখন গোয়েন্দা ডায়েরি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চিনা বিদ্রোহীদের মুখ বন্ধ করতে এক বিশাল নেটওয়ার্ক চালাচ্ছিল বেজিং। এই অভিযানের প্রতিটি খুঁটিনাটি চ্যাটজিপিটিতে রেকর্ড করতেন সংশ্লিষ্ট চিনা কর্মকর্তা। ভুয়া আমেরিকান ইমিগ্রেশন অফিসার সেজে হুমকি দেওয়া থেকে শুরু করে আদালতের জাল নথিপত্র তৈরি— সবকিছুর পরিকল্পনা ছিল ওই চ্যাটে। ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ অস্বাভাবিক গতিবিধি লক্ষ করে ওই অ্যাকাউন্টটি পরীক্ষা করতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।
মৃত বলে চালানোর নীল নকশা
তদন্তে জানা গেছে, এক চিনা বিদ্রোহীকে মৃত প্রমাণ করতে ভুয়া শোকসংবাদ এবং কবরের ছবি পর্যন্ত তৈরি করেছিল ওই চক্র। ২০২৩ সালে ছড়িয়ে পড়া সেই গুজব যে আসলে চিনা গোয়েন্দাদের মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল, তার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে চ্যাটজিপিটির হিস্ট্রি থেকে।
ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজড দমনপীড়ন
ওপেনএআই-এর প্রধান তদন্তকারী বেন নিমো জানিয়েছেন, এটি কেবল ডিজিটাল ট্রোলিং নয়, বরং সুপরিকল্পিত ‘ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন’। শত শত মানুষের একটি দল হাজার হাজার ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে চিনের সমালোচকদের ওপর চড়াও হতো। চ্যাটজিপিটি এখানে সরাসরি কন্টেন্ট তৈরির চেয়েও বড় ভূমিকা পালন করেছে অপারেশনাল ডায়েরি বা প্ল্যানিং টুল হিসেবে।
প্রথাগত সাইবার যুদ্ধের দিন শেষ হয়ে এখন শুরু হয়েছে এআই যুদ্ধ। কোনো দেশের গোয়েন্দা সংস্থা নয়, বরং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাই এবার চিনের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মুখোশ খুলে দিল।