মাতৃঘাতী স্ত্রীকে বাঁচাতে সাজানো গল্প ফাঁস: পুলিশের জালে ছেলে ও পুত্রবধূ

মাতৃঘাতী স্ত্রীকে বাঁচাতে সাজানো গল্প ফাঁস: পুলিশের জালে ছেলে ও পুত্রবধূ

পূর্বস্থলীর নাদনঘাট থানার জালুইডাঙায় বৃদ্ধা শাশুড়ি লক্ষ্মী ঘোষকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ছোট পুত্রবধূ চন্দনা ঘোষ ও ছেলে সুকান্ত ঘোষ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক অশান্তির জেরে শাশুড়িকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন চন্দনা। ঘটনার সময় বড় ছেলে ও তার পরিবার বাড়িতে ছিলেন না। এরপরই স্ত্রীকে বাঁচাতে মৃত মায়ের কান কেটে গয়না সরিয়ে লুটের নাটক ফাঁদেন পেশায় চায়ের দোকানদার সুকান্ত। প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে মায়ের দেহটি পাশের গলিতে ফেলে নিখোঁজ হওয়ার রটনা ছড়ানো হয়।

গত ২৭শে জানুয়ারি বৃদ্ধার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের পর দম্পতি দাবি করেন, সোনার অলঙ্কারের লোভে দুষ্কৃতীরা এই খুন করেছে। তবে ফরেন্সিক তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণ মিলতেই পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে। পুলিশের ম্যারাথন জেরায় অবশেষে অসংলগ্ন কথাবার্তার পর বেরিয়ে আসে আসল সত্য। স্ত্রীকে আড়াল করতে সুকান্তের যাবতীয় পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং খুনের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।

বুধবার ধৃতদের কালনা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ জানিয়েছে, শারীরিকভাবে অক্ষম বৃদ্ধাকে ‘সংসারের বোঝা’ মনে করেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অভিযুক্ত সুকান্ত আদালতে নিজের দোষ অস্বীকার করলেও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ ও বয়ানে তার অপরাধের যোগসূত্র স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও সরিয়ে ফেলা গয়না উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *