ক্ষমা কি সত্যিই মন থেকে চাওয়া হয়েছে? এনসিইআরটি বই বিতর্কে শিক্ষা দপ্তরকে নজিরবিহীন তোপ প্রধান বিচারপতির

ক্ষমা কি সত্যিই মন থেকে চাওয়া হয়েছে? এনসিইআরটি বই বিতর্কে শিক্ষা দপ্তরকে নজিরবিহীন তোপ প্রধান বিচারপতির

নিউজ ডেস্ক

এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে ‘বিচারবিভাগে দুর্নীতি’ সংক্রান্ত একটি অধ্যায় ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার কড়া অবস্থান নিলেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। শিক্ষা দপ্তরের পেশ করা ক্ষমাপ্রার্থনার প্রেস রিলিজ দেখে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন প্রধান বিচারপতি— “এই ক্ষমা কি সত্যিই মন থেকে চাওয়া হয়েছে নাকি কেবল দায়সারা?”

বৃহস্পতিবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কেবল দুঃখপ্রকাশ করলেই হবে না, এর পেছনে আসল দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে। আদালতের নির্দেশে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের সচিব এবং এনসিইআরটি-র ডিরেক্টর দিনেশ সাকলানিকে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।

আদালতের কঠোর নির্দেশসমূহ

আদালত এই বিতর্কিত বই নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে:

  • বইটির সমস্ত বিলি-বণ্টন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং বাজার থেকে সমস্ত কপি দ্রুত বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
  • অনলাইনে থাকা এই বইয়ের পিডিএফ ভার্সনও সরিয়ে ফেলতে হবে।
  • ভবিষ্যতে এই বইয়ের কোনো অংশ বা বিষয়বস্তু পুনর্মুদ্রণ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা যাবে না।
  • যেসব স্কুলে ইতিমধ্যে বই পৌঁছে গিয়েছে, সেখানকার প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বইগুলো দপ্তরে ফেরত পাঠানোর জন্য।

শুনানি চলাকালীন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানান যে, তারা আরও ভালোভাবে ক্ষমাপত্র পেশ করবেন। এর প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, “সারা দেশ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তাই আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। রেকর্ড পরীক্ষা করার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টিং প্রসঙ্গে এক আইনজীবীর আপত্তির জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, মূলধারার মিডিয়া অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে এবং তাদের মাধ্যমেই আদালত এই বিষয়টি জানতে পেরেছে। তবে তুষার মেহতা পাল্টা দাবি করেন যে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং কিছু ট্যাবলয়েড ব্ল্যাকমেইলারদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। আপাতত শিক্ষা দপ্তরের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের বিচারবিভাগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *