ভারতীয় বাজারে চীনা স্মার্টফোনের দাপট কি শেষ? এক বছরেই ওলটপালট মোবাইল দুনিয়ার সমীকরণ

ভারতীয় বাজারে চীনা স্মার্টফোনের দাপট কি শেষ? এক বছরেই ওলটপালট মোবাইল দুনিয়ার সমীকরণ

ভারতীয় স্মার্টফোন বাজারে বইছে পরিবর্তনের ঝোড়ো হাওয়া। এক সময় যে চীনা ব্র্যান্ডগুলো দেশের বাজার একচ্ছত্রভাবে দখল করে রেখেছিল, ২০২৫ অর্থবর্ষে এসে তাদের জনপ্রিয়তায় বড়সড় ধস নেমেছে। শাওমি, অপো, ওয়ানপ্লাস এবং রিয়েলমির মতো নামী সংস্থাগুলির বিক্রি ও আয় এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে।

কেন মুখ ফেরাচ্ছেন ভারতীয় গ্রাহকরা

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় গ্রাহকদের পছন্দ এখন বদলে যাচ্ছে। একটা সময় ২০ হাজার টাকার নিচের স্মার্টফোনের যে রমরমা ছিল, তা এখন অতীত। সস্তার ফোন ছেড়ে মানুষ এখন ঝুঁকছেন প্রিমিয়াম বা দামী স্মার্টফোনের দিকে। তথ্য বলছে, ২০ হাজার টাকার নিচের ফোনের বাজার অংশীদারি ৩৮ শতাংশ থেকে কমে ২৯ শতাংশে এসে ঠেকেছে।

লাভবান অ্যাপল ও স্যামসাং

চীনা সংস্থাগুলো যখন লোকসানের মুখ দেখছে, তখন রমরমিয়ে ব্যবসা করছে অ্যাপল এবং স্যামসাং। ২০২৫ অর্থবর্ষে অ্যাপলের বিক্রি ১৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৭৯,৩৭৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। পিছিয়ে নেই স্যামসাংও, তাদের ব্যবসা ১২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.১১ লক্ষ কোটি টাকায়। গ্রাহকদের দামী এবং প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের প্রতি এই আকর্ষণই চীনা কো ম্পা নিগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

একমাত্র ব্যতিক্রম ভিভো

চীনা ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একমাত্র ভিভো (Vivo) বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে পেরেছে। তাদের আয় প্রায় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অফলাইন রিটেইল নেটওয়ার্ক এবং প্রিমিয়াম সেগমেন্টে নজর দেওয়ার কারণেই ভিভো এই মন্দার বাজারেও টিকে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিসংখ্যানে বড় পতন

রেজিস্ট্রার অফ কো ম্পা নিজ (RoC)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে ভারতীয়রা চীনা ইলেকট্রনিক্স পণ্যের পেছনে প্রায় ১.৭২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন। চলতি অর্থবর্ষে সেই অঙ্ক কমে দাঁড়িয়েছে ১.৬৫ লক্ষ কোটি টাকায়। মাত্র এক বছরেই নয়টি বড় চীনা কো ম্পা নির সম্মিলিত আয় ৪.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা আগে অভাবনীয় ছিল।

সব মিলিয়ে সস্তার স্মার্টফোন সেগমেন্টে ধস নামায় ভারতীয় বাজারে চীনা আধিপত্য এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রাহকদের এই প্রিমিয়াম প্রীতি বজায় থাকলে আগামী দিনে বাজারে টিকে থাকতে চীনা ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের রণকৌশল পুরোপুরি বদলাতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *