ব্রাজিলে প্রকৃতির তাণ্ডবে লাশের পাহাড়, মৃত বেড়ে ৪৬

ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রকৃতির রুদ্ররোষে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। গত কয়েকদিনের টানা অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে মিনাস গেরাইস অঞ্চলের জনজীবন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। তবে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, উদ্ধারকাজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লাশের সারি।
নিখোঁজদের সন্ধানে রুদ্ধশ্বাস অভিযান
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যায় ভেসে গিয়ে বা মাটির নিচে চাপা পড়ে এখনও অন্তত ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো দিনরাত ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে, তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও কর্দমাক্ত মাটির কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ। সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ
বন্যা ও ভূমিধসের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে জুইজ ডি ফোরা এবং উবা নামক দুটি শহরে। এই দুই শহর থেকে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩,৬০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অনেকে নিজেদের ঘরবাড়ি এবং সর্বস্ব হারিয়ে এখন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ধ্বংসস্তূপে পরিণত জনপদ
অবিরাম বর্ষণে পাহাড় ধসে পড়ে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। অনেক স্থানে ঘরবাড়ি আক্ষরিক অর্থেই মাটির সাথে মিশে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে যে, বৃষ্টির দাপট আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ব্রাজিল সরকার এই দুর্যোগকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য শোক প্রকাশের পাশাপাশি পুনর্বাসনের কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।