ইন্দ্রাবতী নদীর তীরে খতম দুই মাওবাদী, ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পালটা মারে আতঙ্ক

বিজাপুর: কেন্দ্রের মোদী সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ছত্তিশগড়ের জঙ্গলে মাওবাদীদের ওপর সাঁড়াশি চাপ ততই বাড়ছে। ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে মাওবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে এবার বিজাপুরে বড়সড় সাফল্য পেল যৌথ বাহিনী। ইন্দ্রাবতী নদীর দুর্গম এলাকায় হাড়হিম করা এনকাউন্টারে খতম হয়েছে দুই সশস্ত্র মাওবাদী। উদ্ধার হয়েছে ইনসাস ও এসএলআর রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র।
রুদ্ধশ্বাস অভিযান ও গুলির লড়াই
গোপন সূত্রে খবর ছিল যে, বিজাপুর জেলার ইন্দ্রাবতী নদী সংলগ্ন ঘন জঙ্গলে মাওবাদীদের একটি বড় দল আশ্রয় নিয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই এলাকাটি ঘিরে ফেলে সিআরপিএফ ও রাজ্য পুলিশের যৌথ বাহিনী। বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়েই জঙ্গল থেকে অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে মাওবাদীরা। পাল্টা জবাব দেয় জওয়ানরাও। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই রুদ্ধশ্বাস সংঘর্ষে পিছু হটতে বাধ্য হয় মাও-বাহিনী। জঙ্গল কিছুটা শান্ত হতেই তল্লাশি চালিয়ে দুই উর্দিধারী মাওবাদীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে বাহিনী।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার
বিজাপুরের এসপি ডঃ জিতেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, এনকাউন্টার স্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল এবং প্রচুর পরিমাণে তাজা কার্তুজ ও বিস্ফোরক। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী থেকে স্পষ্ট যে, ওই এলাকায় বড়সড় কোনো নাশকতার ছক কষেছিল জঙ্গিরা।
সাঁড়াশি অভিযানে কোণঠাসা মাওবাদীরা
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ভারতকে ‘মাওমুক্ত’ করার যে ডেডলাইন নির্ধারণ করেছে, তার সুফল এখন হাতেনাতে মিলছে। গত কয়েক মাসে বস্তার এবং বিজাপুর সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে মাওবাদী সংগঠনগুলি। একদিকে যেমন বাহিনীর গুলিতে শীর্ষ নেতারা খতম হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাণ বাঁচাতে ও মূল স্রোতে ফিরতে আত্মসমর্পণের হিড়িকও বাড়ছে।
আপাতত পুরো ইন্দ্রাবতী নদী সংলগ্ন জঙ্গল ঘিরে রাখা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া মাওবাদীরা কাছাকাছি কোথাও লুকিয়ে আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ড্রোনের সাহায্যেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এলাকায় জারি রয়েছে চিরুনি তল্লাশি।