ইসরায়েলি কারাগারে প্যালেস্তিনীয় বন্দিদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইসরায়েলি কারাগারে প্যালেস্তিনীয় বন্দিদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর তথ্য

মানবাধিকার সংগঠন বি’সেলেম-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি কারাগারগুলোকে ‘নির্যাতন কেন্দ্র’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ‘ওয়েলকাম টু হেল’ রিপোর্টের বর্ধিত এই সংস্করণে ২১ জন মুক্ত প্যালেস্তিনীয়র সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এতে নিয়মতান্ত্রিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং চিকিৎসাবঞ্চনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ৮৪ জন বন্দি ইসরায়েলি হেফাজতে প্রাণ হারিয়েছেন।

গাজা ও পশ্চিম তীরে গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে বন্দি সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিচারহীনভাবে আটকে রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘুতিসহ অসংখ্য বন্দি দীর্ঘকাল একাকী কারাবাস ও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও দেশটির নীতি নির্ধারকদের কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনিক আটক ব্যবস্থা মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছে।

ভয়াবহ প্রতিকূলতার মাঝেও বন্দিরা কারাগারের অভ্যন্তরে শিক্ষা ও সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জারি রেখেছেন। আল-কুদস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ কর্মসূচির অধীনে অনেক বন্দি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদ্ধতিগত দমনপীড়ন কেবল আইনি বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিরোধ দমনের একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *