প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নতুন ভিআইপি জেট কেনার প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের স্মারক অপসারণের মাধ্যমে ‘ডিকলোনাইজেশন’-এর বার্তা দেওয়া হলেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের নতুন এক্সিকিউটিভ জেট কেনার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতীয় বায়ুসেনার ‘পেগাসাস’ স্কোয়াড্রনের জন্য শীর্ষ সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক কর্তাদের পরিবহনে ব্যবহৃত পুরনো বিমানগুলি বদলে নতুন প্রজন্মের বিজনেস জেট সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমলা ও সেনা প্রধানদের জন্য এই বিশেষ আকাশপথের বিলাসিতা বজায় রাখার প্রথাকে অনেকেই ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
বিতর্কের মূলে রয়েছে যুদ্ধবিমান ও ভিআইপি জেটের আয়ুষ্কালের বৈষম্য। যেখানে মিগ-২১ বা জাগুয়ারের মতো সামনের সারির যুদ্ধবিমানগুলি চার থেকে পাঁচ দশক ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরিষেবা দিচ্ছে, সেখানে মাত্র ২০ বছর বয়সেই আমলাদের ব্যবহৃত এমব্রেয়ার লেগাসি ৬০০ জেটগুলি বদলানোর তোড়জোড় চলছে। প্রাক্তন সেনা আধিকারিকদের মতে, যুদ্ধবিমানগুলিকে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত ব্যবহার করা হলেও ভিআইপি জেটের ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তনের এই অগ্রাধিকার নীতি বৈষম্যমূলক।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা ভিআইপিদের জন্য পৃথক ও সুরক্ষিত বিমান বহর বজায় রাখার মানসিকতা স্বাধীনতার পরেও অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও সম্প্রতি বারামতিতে একটি বেসরকারি বিমান দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার খাতিরে এই সংগ্রহের প্রক্রিয়া দ্রুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে প্রতীকীভাবে পুরনো মূর্তি বা স্থাপত্য সরালেও প্রশাসনিক কাঠামোর অভ্যন্তরে থাকা ক্ষমতার বিশেষাধিকার ও অগ্রাধিকারের মানসিকতা পরিবর্তন করা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে।