সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের ইনস্টাগ্রাম হ্যাক করে একগুচ্ছ মেসেজ, প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য

নবান্নের ডিজিটাল নিরাপত্তায় বড়সড় হানা দিয়ে হ্যাকাররা দখল নিল রাজ্য সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় জন-সংযোগ পরিষেবা ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ (Sorasori Mukhyomantri)-র অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এই ঘটনায় সরকারি স্তরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এবং বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানা ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে।
যেভাবে চলল হ্যাকারদের তাণ্ডব
পুলিশি সূত্র এবং নবান্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা দু’দফায় এই অ্যাকাউন্টটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। প্রথম হানাটি আসে বুধবার রাত ২টো ০৬ মিনিট থেকে ২টো ১৯ মিনিটের মধ্যে। এরপর দ্বিতীয়বার হ্যাকাররা সক্রিয় হয় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১১ মিনিট থেকে ৯টা ২২ মিনিটের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে অ্যাকাউন্টটি থেকে মোট ৪৭টি অননুমোদিত এবং সন্দেহজনক মেসেজ পাঠানো হয়েছে।
নিশানায় ছিল কারা
তদন্তকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে মেসেজ পাঠানোর ধরন দেখে। হ্যাকাররা ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ প্রোফাইলটি ব্যবহার করে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান পেজ ‘এগিয়ে বাংলা’ এবং কলকাতা পুলিশের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে সরাসরি মেসেজ পাঠিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই প্রোফাইল থেকে বিতর্কিত দুটি ইনস্টাগ্রাম ‘স্টোরিও’ পোস্ট করা হয় যা প্রশাসনের নজর কাড়তেই তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়।
পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গোয়েন্দারা ইতিমধ্যেই হ্যাকারদের হদিস পেতে ওই নির্দিষ্ট সময়ের আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) এবং লগ-ইন হিস্ট্রি খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনো আন্তর্জাতিক বা ভিন রাজ্যের হ্যাকার গোষ্ঠী এই কাজের পিছনে থাকতে পারে। তবে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে এই মেসেজগুলো পাঠানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলগুলির নিরাপত্তা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের আওতাধীন একটি প্রোফাইল এভাবে হ্যাক হওয়া নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।