এনসিইআরটি পাঠ্যপুস্তক বিতর্কে এবার সরাসরি দুঃখপ্রকাশ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

নয়াদিল্লি
এনসিইআরটি (NCERT) বা ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং-এর পাঠ্যপুস্তক নিয়ে চলমান বির্তক এবার এক নতুন মোড় নিল। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই এবং জনমানসে তৈরি হওয়া ক্ষোভের প্রেক্ষিতে অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে তিনি কেবল নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি, বরং পুরো ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দেশের বিচারব্যবস্থার ওপর সরকারের অগাধ আস্থা ও সম্মান রয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের কোনও বিষয়বস্তু নিয়ে যদি আদালতের অবমাননা বা আসাম্মানের প্রশ্ন ওঠে, তবে তা সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করবে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের কথায়, “বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা অপরিসীম। কোনওভাবেই আদালতের আসাম্মান হোক, এমন কোনও অভিপ্রায় আমাদের নেই। সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে যে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই এনসিইআরটি-র বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে নির্দিষ্ট কিছু অধ্যায় বাদ দেওয়া বা তথ্য পরিবর্তন করা নিয়ে শিক্ষাবিদ এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছিল। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের পক্ষ থেকে আসা কড়া পর্যবেক্ষণের পরই কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে খবর, আদালতের নির্দেশ মেনে পাঠ্যপুস্তকের বিতর্কিত অংশগুলো পুনর্বিবেচনা করার জন্য একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দুঃখপ্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, পাঠ্যপুস্তক বিতর্কের অবসান ঘটাতে সরকার এবার অত্যন্ত নমনীয় এবং আইনি পথে সমাধান খুঁজতে আগ্রহী। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই দ্রুত এই সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।