পূর্ব ভারতে কলকাতাই একমাত্র অর্থনৈতিক হাব: সঞ্জীব সান্যাল

পূর্ব ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল কলকাতা। ভুবনেশ্বর কিংবা রাঁচির মতো উদীয়মান শহরগুলো দৌড়ে থাকলেও কলকাতার বিশালত্বের কাছে সেগুলো এখনও নগণ্য। সম্প্রতি বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI) আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পর্ষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল।
আঞ্চলিক অর্থনীতির ভরকেন্দ্র যখন তিলোত্তমা
সঞ্জীব সান্যাল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কলকাতার একাধিপত্যের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ ভারতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভার ভাগ করে নিয়েছে বেঙ্গালুরু, চেন্নাই এবং হায়দরাবাদ। পশ্চিম ভারতে সেই ভূমিকা পালন করছে মুম্বই, পুনে এবং আমেদাবাদ। এমনকি উত্তর ভারতেও দিল্লি ও এনসিআর এলাকা মিলেমিশে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক বলয় তৈরি করেছে। কিন্তু পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা; এখানে কলকাতাই একমাত্র শক্তিশালী স্তম্ভ, যার বিকল্প ধারেকাছে কেউ নেই।
সুযোগের সদ্ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের পথ
কলকাতার এই বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সঞ্জীববাবু একটি গুরুত্বপূর্ণ খামতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি জানান, কলকাতার হাতে যে পরিমাণ সম্পদ ও সুযোগ রয়েছে, সেই তুলনায় অর্থনৈতিক সক্রিয়তা বা ‘ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি’ অনেক কম। এই স্থবিরতা কাটাতে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সমুদ্র উপকূলবর্তী অবস্থানের পূর্ণ সুবিধা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সঞ্জীব সান্যালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
- পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বন্দর-কেন্দ্রিক বা ‘পোর্ট-লেড’ অর্থনীতিতে জোর দেওয়া জরুরি।
- রাজ্যে একটি আধুনিক ও বড় মাপের গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হলে তা গোটা বাংলার অর্থনৈতিক চালচিত্র আমূল বদলে দিতে পারে।
- উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আনলে কলকাতা কেবল পূর্ব ভারত নয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
জাতীয় অর্থনীতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন এই প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ। তিনি জানান, ভারত বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত মজবুত অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার (GDP Growth) বার্ষিক ৭ শতাংশ থেকে ৭.৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখা সম্ভব বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পূর্ব ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে কলকাতার ভূমিকা আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।