আসানসোলে নতুন রেল লাইন নির্মাণে বরাদ্দ ১০৭ কোটি

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বড়সড় চমক দিল রেলমন্ত্রক। আসানসোলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ব রেলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কালীপাহাড়ি বাইপাস লাইন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪.৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন রেল লাইনটি নির্মাণ করতে খরচ ধরা হয়েছে ১০৭ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।
কেন এই প্রকল্পকে ঘিরে এত উদ্দীপনা?
বর্তমানে পূর্ব রেল এবং দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে জোনের মধ্যে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকে আসানসোল ইয়ার্ডের ওপর দিয়ে যেতে হয়। মূলত ইঞ্জিন পরিবর্তন বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত কারণে ট্রেনগুলোকে এই ইয়ার্ডে প্রবেশ করতে হয়। এর ফলে সৃষ্টি হয় চরম যানজট এবং সময় অপচয়। রেলের পরিসংখ্যান বলছে, এই জটিলতার কারণে মালবাহী ট্রেনগুলো গড়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা এবং যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো অন্তত আধঘণ্টা করে দেরিতে চলে। প্রতিদিন গড়ে ৯টি মালবাহী এবং ৮টি যাত্রীবাহী ট্রেনের সময়সূচী এই সমস্যার কারণে ওলটপালট হয়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ রেল যাত্রীদের ওপর।
বদলে যাবে আসানসোল ইয়ার্ডের চিত্র
রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ৪.৭৫ কিলোমিটারের কালীপাহাড়ি বাইপাস লাইনটি তৈরি হয়ে গেলে দুই রেলওয়ে জোনের মধ্যে একটি সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে। তখন আর ট্রেনগুলোকে অকারণে আসানসোল ইয়ার্ডে ঢুকতে হবে না। ফলে ইঞ্জিন পরিবর্তনের মতো পরিচালনাগত জটিলতা নিমেষেই কেটে যাবে।
এই প্রকল্পের ফলে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে:
- যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো আর অকারণে মাঝপথে দাঁড়িয়ে থাকবে না, ফলে যাত্রীরা সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
- পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের গতি বাড়বে, যা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
- আসানসোল ইয়ার্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে, ফলে সার্বিক রেল পরিষেবা আরও উন্নত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে আসানসোলের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে রেলের এই বিশাল অঙ্কের বরাদ্দ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, খুব দ্রুত এই বাইপাস লাইনের কাজ শুরু করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ এবং শিল্পক্ষেত্র দ্রুত এর সুফল পেতে পারে।