রেলের ক্ষতিপূরণ পেতে আর বছরের পর বছর অপেক্ষা নয়, মাত্র ৬ মাসেই ক্লেমের নিষ্পত্তি

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যু হোক বা আহত হওয়া, কিংবা মালপত্র হারানো—রেলে চড়ে কোনো বিপত্তিতে পড়লে ক্ষতিপূরণ পেতে এতদিন সাধারণ মানুষকে জুতো ক্ষয় করতে হতো। রেলওয়ে ক্লেম ট্রাইব্যুনালের চক্কর কাটতে কাটতে কেটে যেত বছরের পর বছর। কিন্তু এবার সেই ভোগান্তিতে ইতি টানতে চলেছে ভারতীয় রেল। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এক ঐতিহাসিক ঘোষণায় জানিয়েছেন, এখন থেকে যে কোনো রেলওয়ে ক্লেম বা ক্ষতিপূরণের মামলার নিষ্পত্তি হবে সর্বাধিক ৬ মাসের মধ্যে। শুধু তাই নয়, গোটা প্রক্রিয়াটিকে আনা হচ্ছে হাতের মুঠোয়।
ডিজিটাল বিপ্লবে ঘুচবে হয়রানি
রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে রেলওয়ে ক্লেম ট্রাইব্যুনালকে পুরোপুরি ডিজিটাল করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করা যাবে। এতদিন দেশের মাত্র ২১টি শহরের ২৩টি বেঞ্চে গিয়ে সশরীরে আবেদন জানাতে হতো। ট্রেনের সফরে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা ঘটলে কোন বেঞ্চে মামলা হবে, তা বুঝতেই কালঘাম ছুটত ভুক্তভোগীদের। এখন থেকে সেই সমস্যা আর থাকছে না। আগামী ১২ মাসের মধ্যে সারা দেশে ‘ই-রেলওয়ে ক্লেম ট্রাইব্যুনাল’ প্রক্রিয়া পুরোদমে কার্যকর হবে।
ঘরে বসেই নজরদারি ও শুনানি
নতুন ব্যবস্থায় অভিযোগকারীরা সপ্তাহে সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে মামলা নথিভুক্ত করতে পারবেন। মামলার বর্তমান অবস্থা কী, তা জানার জন্য আর দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না; মিলবে ‘রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং’ সুবিধা। প্রতিটি পর্যায়ের আপডেট আসবে মোবাইলে নোটিফিকেশনের মাধ্যমে। সবথেকে বড় সুবিধা হলো ‘হাইব্রিড’ মোডে শুনানি। অর্থাৎ, যদি কেউ শারীরিক অসুস্থতা বা দূরত্বের কারণে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হতে না পারেন, তবে তিনি ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। এতে শুনানি মুলতুবি হওয়ার হার কমবে এবং বিচার মিলবে দ্রুত।
কমেছে বকেয়া মামলার পাহাড়
রেল মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে বকেয়া মামলার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আগে যেখানে প্রায় ৩৪ হাজার মামলা ঝুলে ছিল, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৫০৮-এ। অর্থাৎ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মামলা ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
কোন কোন ক্ষেত্রে মিলবে এই সুবিধা?
১৯৮৭ সালের রেলওয়ে ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, রেল বোর্ড নিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য:
- রেল দুর্ঘটনায় যাত্রী মৃত্যু বা আহত হলে।
- ট্রেন থেকে মালপত্র হারিয়ে গেলে বা ঠিকমতো ডেলিভারি না হলে।
- টিকিট রিফান্ড বা পণ্য পরিবহণ সংক্রান্ত আর্থিক বিবাদ থাকলে।
রেল আধিকারিকদের দাবি, এই নয়া ব্যবস্থার ফলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে পারবেন। রেলের এই আধুনিকীকরণ সাধারণ যাত্রীদের জন্য এক বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।