রণংদেহি ট্রাম্প! ইরানের দোরগোড়ায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ‘গুপ্তঘাতক’ যুদ্ধবিমান নামাল আমেরিকা

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার আকাশে ফের ঘনাচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। একদিকে যখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই রণকৌশলে চরম আগ্রাসী মেজাজ দেখালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে কার্যত অন্তিম হুঁশিয়ারি দিয়ে এই প্রথমবার ইজ়রায়েলের মাটিতে বিশ্বের সবথেকে বিধ্বংসী এবং অত্যাধুনিক ‘স্টিলথ’ ফাইটার জেট এফ-২২ র্যাপ্টর (F-22 Raptor) মোতায়েন করল ওয়াশিংটন।
শান্তি আলোচনার আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি?
নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনেভায় আলোচনা শুরু হওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই এই ভয়ঙ্কর যুদ্ধবিমানগুলো ইজ়রায়েলের মাটি ছুঁতে শুরু করেছে। ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে আসা এই বিশেষ ‘কিলার’ জেটগুলোর একাংশ ইতিমত্যেই ইজ়রায়েলের গোপন ঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে, বাকিগুলো রয়েছে মাঝ আকাশে। কূটনৈতিক মহলের মতে, আলোচনার টেবিলে ইরান যদি আমেরিকার শর্ত মেনে না নেয়, তবে যে কোনো মুহূর্তে তেহরানের ওপর আছড়ে পড়তে পারে মার্কিন রোষ— এই কড়া বার্তাই দিতে চাইলেন ট্রাম্প।
কেন এই এফ-২২ র্যাপ্টরকে নিয়ে এত আতঙ্ক?
মার্কিন বিমান বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের কোনো দেশের কাছেই এমন প্রযুক্তি নেই যা এই এফ-২২ র্যাপ্টরকে মাঝ আকাশে শনাক্ত করতে পারে। রাডারের চোখে ধুলো দিতে ওস্তাদ এই ‘স্টিলথ’ বিমানটি একই সাথে আকাশ এবং স্থলভাগে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সক্ষম। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর জন্য এর চেয়ে উপযোগী অস্ত্র আর নেই।
ঘিরে ফেলা হয়েছে ইরানকে!
শুধুমাত্র ইজ়রায়েল নয়, পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে কার্যত চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছে মার্কিন সামরিক শক্তি। বর্তমানে ওই অঞ্চলে আমেরিকার দুটি বিশাল এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং জর্ডনের ঘাঁটিতে ৬০টিরও বেশি অত্যাধুনিক ফাইটার জেট মোতায়েন রয়েছে। এবার তার সাথে যুক্ত হলো অপ্রতিরোধ্য এফ-২২ র্যাপ্টর।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
আগামী সপ্তাহে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় টেকনিক্যাল স্তরের আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। তবে ইজ়রায়েলের মাটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই হুঙ্কার ইরানের ওপর মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে কি ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়সড় কোনো সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেবেন? এই প্রশ্নই এখন কাঁপিয়ে দিচ্ছে গোটা বিশ্বের শেয়ার বাজার থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকগুলোকে। পশ্চিম এশিয়ার আকাশে এফ-২২-এর গর্জন কি আসলে এক মহা-সংঘাতের পূর্বাভাস? উত্তরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দুনিয়া।