আমেরিকা-ইরান পরমাণু সংঘাত: জেনেভায় আলোচনা ঘিরে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফার পরমাণু আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে চাইছেন, অন্যদিকে ইরানও যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় সীমান্তে ব্যালিস্টিক মিসাইল সাজিয়ে প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশ উপমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির উপস্থিতিতে এই বৈঠক চললেও সমাধানসূত্র নিয়ে সংশয় কাটেনি।
ওয়াশিংটন চাইছে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করুক, কিন্তু তেহরান একে নিজেদের অধিকার বলে দাবি করছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি একটি ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তাব করেছেন। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান শুধুমাত্র চিকিৎসা ও গবেষণার প্রয়োজনে সীমিতভাবে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ করতে পারবে। তবে দুই পক্ষ এই সমঝোতায় শেষ পর্যন্ত রাজি হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ওপর হামলা চালানো আমেরিকার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রাক্তন সিআইএ কর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ছোটখাটো হামলাও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের জীবন বিপন্ন করতে পারে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এই কঠোর নীতি ইরানকে আরও অনমনীয় করে তুলতে পারে। শেষ পর্যন্ত আলোচনা সফল হয় নাকি রণক্ষেত্র তৈরি হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।