ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তরুণীদের ওপর নারকীয় হামলা ও হেনস্থা

ভোট পরবর্তী বাংলাদেশে ফের উত্তাল পরিস্থিতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পোশাকের অজুহাতে দুই তরুণীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল একদল ছাত্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে জামাত-ই-ইসলামি সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের নাম উঠে আসছে।
ঠিক কী ঘটেছিল
বুধবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, নাজিরা বাজার থেকে সেহরি খেয়ে আসা দুই তরুণীকে ‘পাশ্চাত্য পোশাক’ পরার কারণে পথ আটকে হেনস্থা করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বাঁশের লাঠি হাতে একদল যুবক ওই নারীদের ওপর চড়াও হচ্ছে এবং তাঁদের লাথি মারার চেষ্টা করছে।
ভুক্তভোগীদের বয়ান
আক্রান্ত এক তরুণী কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রশ্ন তোলেন, “কেন আমাকে চড় মারা হলো? আমি কি বাংলাদেশের বাইরের কেউ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে তারা কীভাবে নারীর ওপর হাত তোলে?” ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের পোশাক দেখে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
প্রশাসনের ভূমিকা
ঘটনাটি জানাজানি হতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর হয়েছে। প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও দেখে ইতিমধ্যেই চারজন অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন:
- শাহরিয়ার ইসলাম তুষার (থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ)
- রাকিব আহমেদ সোহান (বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ)
ক্যাম্পাসে নারীদের নিরাপত্তা এবং উগ্রবাদী মানসিকতার এই বহিঃপ্রকাশ নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।