গিরগিটির মতো রং বদলানো মানুষদের এবার সপাটে ঝেঁটিয়ে বিদায় করলেন গায়িকা অঙ্কিতা ভট্টাচার্য

গিরগিটির মতো রং বদলানো মানুষদের এবার সপাটে ঝেঁটিয়ে বিদায় করলেন গায়িকা অঙ্কিতা ভট্টাচার্য

জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’-র মঞ্চ থেকে উঠে আসা জয়ী শিল্পী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য মানেই একরাশ সতেজতা আর সুরেলা জাদু। তবে শুধু সুরের ভুবনেই নয়, ব্যক্তিগত জীবন এবং মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়েও এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করে সংবাদ শিরোনামে উঠে এলেন এই তরুণ তুর্কি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনদর্শন এবং তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা পরিস্থিতি অনুযায়ী বারবার নিজেদের আসল চেহারা লুকোয়, সেইসব ‘গিরগিটি’দের তিনি আর এক মুহূর্তও সহ্য করতে রাজি নন।

ভোল বদলানো মানুষদের নিয়ে সোজাসাপ্টা তোপ

অঙ্কিতার কথায় ফুটে উঠেছে এক গভীর জীবনবোধ। গ্ল্যামার দুনিয়ার চাকচিক্যের আড়ালে অনেক সময় মানুষের আসল রূপ চেনা দায় হয়ে পড়ে। নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলি উপুড় করে তিনি বলেন যে জীবনে অনেক ধরনের মানুষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছে। কেউ ভালো, কেউ আবার মুখোশধারী। শিল্পীর মতে, যারা গিরগিটির মতো রং বদলায়, তাদের জীবন থেকে যত দ্রুত সম্ভব বিদায় করা উচিত। অঙ্কিতা সাফ জানান যে যদি আপনার আশেপাশে এমন কোনো মানুষ থাকে যে প্রতিনিয়ত নিজের রূপ পরিবর্তন করছে, তবে দেরি না করে তাকে ত্যাগ করাই মঙ্গলের কাজ।

স্পষ্টবাদিতা বনাম কুটিলতা

অঙ্কিতা বরাবরই ঠোঁটকাটা এবং স্পষ্টবক্তা হিসেবে পরিচিত। তিনি কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন যে তিনি নিজে সোজা কথা বলতে এবং শুনতে ভালোবাসেন। তাঁর অপছন্দের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে সেইসব মানুষ যারা কথা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলতে অভ্যস্ত। কুটিলতা বা জটিল মানসিকতার মানুষদের থেকে তিনি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তাঁর এই কাঠখোট্টা অথচ সৎ মানসিকতা অনেককেই চমকে দিয়েছে, কারণ বিনোদন জগতে যেখানে অনেকেই কৃত্রিম সৌজন্য বজায় রেখে চলেন, সেখানে অঙ্কিতা নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখতেই বেশি আগ্রহী।

সুরের সাধনায় আপসহীন জয়যাত্রা

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন বা মানুষের চারিত্রিক জটিলতা অঙ্কিতাকে তাঁর মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। সংগীতই তাঁর জীবনের ধ্রুবতারা। শাস্ত্রীয় সংগীত থেকে শুরু করে আধুনিক কিংবা চলচ্চিত্রের গান— সবক্ষেত্রেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ। গান শেখার অদম্য খিদে তাঁর আজও মেটেনি। অঙ্কিতার দাবি, নতুন কিছু শেখার জন্য তিনি যে কোনো দূরত্ব অতিক্রম করতে প্রস্তুত। পরিশ্রম আর প্রতিভার মেলবন্ধনে তিনি আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তার পেছনে রয়েছে ছোটবেলা থেকে লালন করা অগাধ ভালোবাসা আর নিষ্ঠা।

অঙ্কিতা ভট্টাচার্যের এই নতুন অবতার ভক্তদের কাছে একদিকে যেমন চমকপ্রদ, অন্যদিকে অনুপ্রেরণারও। জীবনের কঠিন বাস্তবকে হাসিমুখে স্বীকার করে নিয়ে এবং নেতিবাচক মানুষদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে তিনি প্রমাণ করলেন যে সাফল্যের পথে কেবল প্রতিভা নয়, মেরুদণ্ড সোজা রেখে চলাটাও সমান জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *