বৃদ্ধার পেটে বাসা বেঁধেছিল হাজার হাজার পাথর!

কলকাতার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার এক নজিরবিহীন ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রকাশ্যে এল। এমআর বাঙুর হাসপাতালের চিকিৎসকদের হাত ধরে এক ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা ফিরে পেলেন নতুন জীবন। দীর্ঘকাল ধরে অসহ্য পেটে ব্যথা এবং অনবরত বমির সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা। যন্ত্রণায় কাতর হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেই চোখ কপালে ওঠে চিকিৎসকদের। দেখা যায়, তাঁর পিত্তথলি বা গলব্লাডারে জমেছে অগণিত পাথর।
অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতেই সামনে আসে একাধিক চ্যালেঞ্জ। রোগীর বয়স সত্তোরোর্ধ্ব, তার ওপর ছিল উচ্চ রক্তচাপের মতো বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা। সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়াও ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার ছিল অনিবার্য। চিকিৎসক নীলনারায়ণ সরকারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল এই কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা অত্যন্ত সূক্ষ্ম এই অস্ত্রোপচার শেষে যা দেখা গেল, তা দেখে খোদ চিকিৎসকরাও স্তম্ভিত। বৃদ্ধার পিত্তথলি থেকে একে একে বের করে আনা হয় প্রায় ২০০০টি ছোট-বড় পাথর। সফল অস্ত্রোপচারের পর এখন অনেকটাই সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন ওই বৃদ্ধা।
সরকারি হাসপাতালের এই অভাবনীয় সাফল্য এবং চিকিৎসকদের এই দক্ষতা বর্তমানে গোটা বাংলার চিকিৎসা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও প্রশংসার সৃষ্টি করেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও কীভাবে জীবনদায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এমআর বাঙুর হাসপাতালের এই ঘটনা আবারও তা প্রমাণ করল। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।