ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে কলকাতা: ফল্টলাইনের উপস্থিতিতে বাড়ছে উদ্বেগ

শুক্রবার দুপুরে ৫.৭ মাত্রার জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা। কম্পনের উৎসস্থল প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চল হলেও তিলোত্তমায় দীর্ঘ সময় ধরে কম্পন অনুভূত হয়। যদিও বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি, তবে আতঙ্কিত বাসিন্দারা বহুতল ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বারবার এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় শহরের ভূগর্ভস্থ গঠন নিয়ে নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, কলকাতা ‘সিসমিক জোন’ ৩ ও ৪-এর মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকায় মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। শহরের নিচ দিয়ে প্রসারিত ফল্টলাইন বা চ্যুতি মায়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত। ইন্ডিয়ান প্লেট প্রতি বছর উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ চাপ বাড়ছে। এছাড়া অনিয়ন্ত্রিতভাবে জল তোলার ফলে ভূমিধসের আশঙ্কাও প্রবল হচ্ছে, যা জনবহুল এই মহানগরের জন্য বড় বিপদ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ অমিতাভ মল্লিক ও অধ্যাপক ভবানীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, হুগলি নদীর পলিস্তর কিছুটা কম্পন শুষে নিলেও অতিরিক্ত মাত্রার ভূমিকম্পে বিপর্যয় অনিবার্য। আইআইটি খড়গপুরের সমীক্ষাও শহরকে সতর্কবার্তা দিয়েছে। ভূবিজ্ঞানীদের পরামর্শ, বিপর্যয় এড়াতে বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মবিধি এবং মাটির গঠনশৈলী বিবেচনা করা জরুরি। সঠিক প্রযুক্তি ও মজবুত পরিকাঠামোই ভবিষ্যতে বড় প্রাণহানি রুখতে প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।