মোদী ও মার্ক কার্নির হাই-ভোল্টেজ বৈঠক ঘিরে বাড়ছে উত্তজনা

মোদী ও মার্ক কার্নির হাই-ভোল্টেজ বৈঠক ঘিরে বাড়ছে উত্তজনা

ভারত ও কানাডার তলানিতে ঠেকে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ কি এবার গলতে চলেছে? দীর্ঘদিনের তিক্ততা কাটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে ভারত সফরে এলেন কানাডার নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শুক্রবার বাণিজ্যনগরী মুম্বাইতে পা রাখলেন তিনি। আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত ভারতে তাঁর এই ঠাসা কর্মসূচি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই কার্নির প্রথম ভারত সফর, যা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মুম্বাই থেকে দিল্লি সফরের ব্লুপ্রিন্ট

কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফরের লক্ষ্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। মুম্বাই পৌঁছানোর পর তিনি ভারতের প্রথম সারির শিল্পপতি ও বিজনেস লিডারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যেই তাঁর এই তৎপরতা। এরপর তিনি দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। সোমবার দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রুডো জমানার বিতর্ক এড়ানোর কৌশল

জাস্টিন ট্রুডোর সময়কালে খলিস্তানি ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। কানাডার মাটিতে এক নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের ওপর ট্রুডোর আনা ভিত্তিহীন অভিযোগ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছিল। তবে মার্ক কার্নি এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ট্রুডোর মতো কার্নি পাঞ্জাব সফর থেকে বিরত থাকছেন, যা ভারতের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার প্রতি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একে কার্নির ‘প্র্যাকটিক্যাল ফরেন পলিসি’র অংশ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

কেন এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম

আমেরিকার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক সংক্রান্ত বিবাদের জেরে কানাডা এখন বিকল্প বাজারের সন্ধানে মরিয়া। তাই ভারত, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা কার্নি সরকারের মূল অগ্রাধিকার। ভারতের সঙ্গেও এবার বড় ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি বা ইউরেনিয়াম সরবরাহের মতো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও শক্তি সম্পদ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও দুই দেশ একাধিক ছোটখাটো চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমানোর ছক

ভারত সফরের পর কার্নি অস্ট্রেলিয়া ও জাপান সফরেও যাবেন। মূলত মধ্যম সারির অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে আমেরিকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোই কানাডার বর্তমান লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রধানমন্ত্রী কার্নির এই হাত মেলানো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *