কেজরিওয়াল দিল্লির মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, চোখের জল ফেলবেন না— বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা

কেজরিওয়াল দিল্লির মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, চোখের জল ফেলবেন না— বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা

নয়াদিল্লি: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ শাণালেন দিল্লির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। শুক্রবার বিজয় চকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানান, তথাকথিত আবগারি দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ই শেষ কথা নয়, এটি আইনি প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র। আম আদমি পার্টি এই রায়কে ‘ক্লিন চিট’ হিসেবে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।

মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “কেজরিওয়াল দিল্লির মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। সত্য সামনে আসবেই, তাই এখন ঘাড়িয়ালি চোখের জল ফেলে লাভ নেই।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, আদালত ‘প্রমাণের অভাব’-এর কথা বলেছে, যার অর্থ এই নয় যে কেউ সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। বিষয়টি উচ্চ আদালতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল এবং আইনি লড়াই এখনও বাকি।

জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার ৫টি কঠিন প্রশ্ন

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে সরাসরি কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন রেখা গুপ্তা, যা এখন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে। তিনি জানতে চান:

  • যদি আবগারি নীতি এতটাই স্বচ্ছ এবং রাজস্ব বৃদ্ধিকারী হতো, তবে তদন্ত শুরু হতেই কেন তা তড়িঘড়ি প্রত্যাহার করা হলো?
  • পুরনো নীতিতে কেন ইউ-টার্ন নিতে হলো? নীতিতে গলদ না থাকলে তা জারি রাখা গেল না কেন?
  • পাইকারি মুনাফার হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে হঠাত ১২ শতাংশ করার নেপথ্যে প্রকৃত সুবিধাভোগী কারা?
  • লাইসেন্স কাঠামোয় এমন কী পরিবর্তন আনা হয়েছিল যা নিয়ে এত গুরুতর প্রশ্ন উঠছে?
  • তদন্ত চলাকালীন মাত্র ২০০ দিনের মধ্যে কেন ১৬০ থেকে ১৭০টি মোবাইল ফোন পরিবর্তন করা প্রয়োজন পড়ল? যদি লুকানোর কিছু না-ই থাকে, তবে ডিজিটাল রেকর্ড নষ্ট করার এই চেষ্টা কেন?

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিএজি রিপোর্ট

রেখা গুপ্তা মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট এবং দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বর হিসেবে বিবেচনা করেছিল। এমনকি বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়ার কথাও বলা হয়েছিল আদালতের পক্ষ থেকে। তিনি আরও যোগ করেন, সিএজি (CAG) রিপোর্টেও কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা আসলে দিল্লির সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “নিজেকে ‘কট্টর সৎ’ দাবি করা কোনো নেতা তদন্ত থেকে পালিয়ে বেড়ান না বা সমন এড়িয়ে যান না। জামিন পাওয়া মানেই নির্দোষ হওয়া নয়। দিল্লির মানুষ ইতিপূর্বেই রাজনৈতিকভাবে রায় দিয়ে দিয়েছেন, এবার বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ায় সব সত্য বেরিয়ে আসবে।” বিচারব্যবস্থার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি জানান, উচ্চ আদালতে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত ফয়সালা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *