ঢাকা ও কলকাতায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প: আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

ঢাকা ও কলকাতায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প: আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

শুক্রবার দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ৫.৪ মাত্রার এক মাঝারি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায়, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। ইউএসজিএস এই কম্পনের মাত্রা ৫.৩ বলে উল্লেখ করেছে। ভূমিকম্পের ফলে সাতক্ষীরায় কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ও মসজিদে ফাটল দেখা দিলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। আতঙ্কে ঢাকা ও কলকাতার বাসিন্দারা দ্রুত বহুতল ভবন ছেড়ে খোলা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্ডিয়ান ও বার্মিজ প্লেটের ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের কারণে এই কম্পন সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, ইন্ডিয়ান প্লেট পূর্বদিকে বার্মা প্লেটের নিচে দেবে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট টেনশনাল ফোর্সের কারণেই এই ভূ-কম্পন। তবে এই অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম থাকলেও সিলেট-চট্টগ্রাম বেল্টে অধিক শক্তি সঞ্চিত থাকায় ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা প্রয়োজন। মাত্র একদিন আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.১ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছিল, যা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘনঘন ভূমিকম্পের ঘটনা ভূ-তাত্ত্বিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। যদিও শুক্রবারের কম্পনটি বড় কোনো সাবডাকশন জোনের কেন্দ্রে ছিল না, তবুও গভীরতা কম হওয়ায় কম্পনটি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। গত নভেম্বর মাসেও ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে বাংলাদেশে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছিল। বিশেষজ্ঞরা ডাউকি ফল্ট ও পাহাড়ি অঞ্চলের সাবডাকশন জোন নিয়ে বাড়তি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ শক্তি জমা হয়ে আছে। পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন আবহাওয়া ও ভূ-তাত্ত্বিক গবেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *