মাঝ আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন আর বিকট বিস্ফোরণ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেশে ফেরার আরজি জানালেন জনি বেয়ারস্টো

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এখন চরম উত্তেজনা। ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের আঁচ এবার এসে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাশাহীতেও। আবু ধাবিতে হঠাৎ দফায় দফায় বিকট বিস্ফোরণ এবং আকাশে যুদ্ধবিমানের আনাগোনা এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। আর এই যুদ্ধের মেঘের মাঝেই আটকে পড়েছেন ইংল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার জনি বেয়ারস্টো। প্রাণভয়ে আতঙ্কিত এই ব্যাটার এখন মরিয়া হয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন, “আমাদের কি বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন?”
আবু ধাবিতে যুদ্ধের আতঙ্ক
ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের কোচিং স্টাফের দায়িত্ব পালন করতে বর্তমানে আবু ধাবিতে রয়েছেন বেয়ারস্টো। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, আবু ধাবিজুড়ে শনিবার রাতে অন্তত পাঁচটি বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে, যার তীব্রতায় কেঁপে উঠেছে ঘরবাড়ির জানলা-দরজা। স্থানীয় বাসিন্দাদের ফোনে জরুরি সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছে যাতে তারা জানলা থেকে দূরে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকেন। এমনকি ইয়াশ আইল্যান্ডের ওপর দিয়ে চক্কর কাটতে দেখা গিয়েছে একাধিক যুদ্ধবিমান। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই ইউএই সংবাদমাধ্যম একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনও মেলেনি।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেয়ারস্টোর আরজি
শনিবার সন্ধ্যায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। সেই বার্তার পরিপ্রেক্ষিতেই রবিবার ভোরে নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে সরাসরি আরজি জানান বেয়ারস্টো। অত্যন্ত উদ্বিগ্ন অবস্থায় তিনি লেখেন, “আমাদের কি বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারেন???” তার এই একটি বাক্যই বুঝিয়ে দিচ্ছে মরুশহরে ব্রিটিশ ক্রিকেটাররা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বাতিল ম্যাচ, দুশ্চিন্তায় ইসিবি
বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB)। আজ, ১ মার্চ পাকিস্তান শাহিনস এবং ইংল্যান্ড লায়ন্সের মধ্যে নির্ধারিত দ্বিতীয় ৫০ ওভারের ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ইসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “খেলোয়াড় এবং কর্মীদের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে শেষ কথা। আমরা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি।”
নিশানায় কি মার্কিন ঘাঁটি?
আবু ধাবির আল ধাফরা এয়ার বেস বর্তমানে আমেরিকা এবং ইউএই বিমানবাহিনী ব্যবহার করে। পাশাপাশি দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরটি মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ইরান এই অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন ব্রিটিশ শিবিরকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। যুদ্ধের এই ভয়াবহ আবহে এখন দেখার বিষয়, ব্রিটিশ সরকার জনি বেয়ারস্টো এবং তাদের দলকে কত দ্রুত নিরাপদে উদ্ধার করে লন্ডনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।