২০২৬ সালের হোলিতে মহাজাগতিক ফাস! দহন থেকে রঙ খেলা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি

২০২৬ সালের হোলিতে মহাজাগতিক ফাস! দহন থেকে রঙ খেলা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি

নিউজ ডেস্ক

২০২৬ সালের হোলি নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন বিভ্রান্তি। শাস্ত্রীয় নিয়ম, গ্রহের অবস্থান আর মহাজাগতিক ঘটনার এমন এক অদ্ভুত সংযোগ তৈরি হয়েছে যা ধর্মগুরু থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলকেই চরম দুশ্চিন্তায় ফেলেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হোলিকা দহনের শুভ সময় খুঁজে পেতে কালঘাম ছুটছে পঞ্জিকা বিশেষজ্ঞদের।

কেন এই বছর হোলি নিয়ে এত বিতর্ক?

শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, হোলিকা দহন করতে হয় পূর্ণিমা তিথিতে এবং প্রদোষ কালে। কিন্তু শর্ত হলো, সেই সময় ‘ভদ্রা’ থাকা চলবে না। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বলছে, ২ মার্চ বিকেল ৫:৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা শুরু হচ্ছে, কিন্তু তার সাথেই অশুভ যোগ হিসেবে জুড়ে যাচ্ছে ‘ভদ্রা’। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী ভদ্রা কালে হোলিকা দহন নিষিদ্ধ।

অন্যদিকে, ৩ মার্চের সমীকরণ আরও জটিল। ওই দিন ভোরেই লাগছে চন্দ্রগ্রহণের সূতক কাল। সন্ধ্যায় যখন গ্রহণ কাটবে, ততক্ষণে পূর্ণিমা তিথিই শেষ হয়ে যাবে। ফলে ২ মার্চ বা ৩ মার্চ—কোনো দিনই শাস্ত্রের সব নিয়ম মেনে নিখুঁত শুভ মুহূর্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

রঙের উৎসবে গ্রহণ ও ভদ্রার বাধা

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা এখন আড়াআড়ি দুই ভাগে বিভক্ত। একদলের মতে, ২ মার্চ ভদ্রার শেষ ভাগে অর্থাৎ ‘ভদ্রা পুচ্ছ’ কালে কোনোমতে দহন সম্পন্ন করা যেতে পারে। কিন্তু সমস্যা সেখানেই শেষ নয়। দহনের পরদিন অর্থাৎ ৩ মার্চ গ্রহণ থাকায় সেই দিন রঙ খেলা বা উৎসব পালন করা ধর্মীয়ভাবে অনুচিত বলে মনে করছেন অনেকে। এর ফলে দহনের পর রঙের উৎসবের জন্য মানুষকে অপেক্ষা করতে হবে পুরো একটা দিন। ৪ মার্চের আগে আবির খেলার কোনো যোগ দেখা যাচ্ছে না।

ইতিহাসে বিরল এই সংযোগ

প্রবীণ পুরোহিত এবং জ্যোতিষীদের মতে, কয়েক দশকের মধ্যে হোলি নিয়ে এমন বিচিত্র পরিস্থিতি দেখা যায়নি। সাধারণত দহনের পরের দিনই রঙের উৎসব হয়। কিন্তু এবার গ্রহের ফেরে দহন এবং উৎসবের মাঝে আস্ত একটি দিন ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি এবার পূর্ণিমা ছাড়াই দহন করতে হবে? নাকি গ্রহণের ছায়ায় ঢাকা পড়বে উৎসবের আনন্দ?

আপাতত কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি ধর্মতাত্ত্বিকরা। বিভ্রান্তি আর দুশ্চিন্তার মেঘ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত কোন তিথিতে মানুষ মেতে উঠবে রঙের খেলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, ২০২৬-এর হোলি মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘকাল রয়ে যাবে তার এই অদ্ভুত মহাজাগতিক জটিলতার কারণে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *