ইরানের আগুনের আঁচ এবার ভারতে, শ্রীনগরের রাজপথে আছড়ে পড়ল জনস্রোত

ইরানের আগুনের আঁচ এবার ভারতে, শ্রীনগরের রাজপথে আছড়ে পড়ল জনস্রোত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে ভারতের ভূস্বর্গ। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় খামেনেইর ‘শাহাদাত’-এর খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবাদ আর শোকের আগুনে ফুঁসছে গোটা কাশ্মীর উপত্যকা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে প্রশাসন ইতিমধ্যেই সমগ্র উপত্যকায় ইন্টারনেট পরিষেবা অনিচ্ছিকালের জন্য স্থগিত করেছে এবং আগামী দুই দিন সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে।

উপত্যকাজুড়ে শোকের ছায়া ও গণবিক্ষোভ

রবিবার সকাল থেকেই শ্রীনগরের লাল চক, বদগাম, বান্দিপোরা, অনন্তনাগ এবং পুলওয়ামার মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল কালো পতাকা এবং খামেনেইর প্রতিকৃতি। মিছিলে শামিল হওয়া নারী-পুরুষ ও শিশুদের কণ্ঠে শোনা যায় নউহাখওয়ানি বা শোকগাথা। আমেরিকার ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগানে কেঁপে ওঠে রাজপথ। শোকের এই জনসমুদ্র সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী, কারণ যেকোনো মুহূর্তে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দানা বাঁধছে।

প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও হাই অ্যালার্ট

কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানালেও উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার লক্ষণ নেই। আগাম সতর্কতা হিসেবে সোমবার থেকে উপত্যকার একাধিক জায়গায় চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। শ্রীনগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী। গুজব ছড়ানো রুখতে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা জরুরি ছিল বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তালাবন্ধ থাকবে।

কাশ্মীরের বাইরেও প্রতিবাদের ঢেউ

খামেনেইর মৃত্যুর প্রভাব শুধু কাশ্মীরের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই। কর্নাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার আলিপুরা গ্রামে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানকার মসজিদগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা সভা চলছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন। উত্তরপ্রদেশ এবং লাদাখের শিয়া ধর্মাবলম্বীরাও বিশাল মিছিলে শামিল হয়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়েছেন।

সতর্ক বিদেশ মন্ত্রক ও রাজ্য সরকার

মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, প্রশাসন অত্যন্ত ধৈর্য ও সংযমের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে যাতে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে শোক পালন করতে পারে। এছাড়া ইরানে আটকে থাকা কাশ্মীরি পড়ুয়া ও নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিদেশ মন্ত্রকের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ যেভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *