মোদী ও কার্নির মেগা ডিল ৪.৫ লাখ কোটি টাকার ইউরেনিয়াম চুক্তিতে ভারত ও কানাডার বরফ গলল

মোদী ও কার্নির মেগা ডিল ৪.৫ লাখ কোটি টাকার ইউরেনিয়াম চুক্তিতে ভারত ও কানাডার বরফ গলল

ভারত ও কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্কের আকাশে জমে থাকা কালো মেঘ অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কানাডার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। খালিস্তানি ইস্যু ও হারদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, কার্নির এই সফরের মাধ্যমে তা কাটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

৪.৫ লাখ কোটি টাকার বাণিজ্যিক লক্ষ্যমাত্রা

দুই রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতিতে এদিন তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪.৫ লাখ কোটি টাকা) নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউরেনিয়াম সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা

বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি হলো ‘দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি’। ভারতের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এই চুক্তি গেম-চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হবে। এর পাশাপাশি কানাডা এখন থেকে ‘আন্তর্জাতিক সৌর জোট’ (ISA) এবং ‘গ্লোবাল বায়োফুয়েল অ্যালায়েন্স’-এর অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রেও দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

বিবাদ ভুলে কৌশলগত অংশীদারিত্ব

মাক কার্নি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই তার প্রথম ভারত সফর। স্ত্রীসহ চার দিনের এই সফরে এসে তিনি ভারতের সাথে সুসম্পর্ক পুনরুদ্ধারে বিশেষ জোর দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কার্নির এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা কেবল বাণিজ্যিক অংশীদার নই, বরং ভবিষ্যতের কৌশলগত সাথী।” নিজ্জর বিতর্ক পরবর্তী সময়ে এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রযুক্তিতে জোর এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বাণিজ্য ও জ্বালানির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মহাকাশ গবেষণা এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে দুই দেশ একে অপরকে সাহায্য করবে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের উপস্থিতিতে এই প্রযুক্তিগত সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি শুধুমাত্র ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং পশ্চিমী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ককে আবারও উষ্ণ করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *