আলু চাষিদের ক্ষোভে রণক্ষেত্র বর্ধমান! এনএইচ ১৯ অবরুদ্ধ করে পুলিশের সাথে ধুন্ধুমার লড়াই

আলু চাষিদের ক্ষোভে রণক্ষেত্র বর্ধমান! এনএইচ ১৯ অবরুদ্ধ করে পুলিশের সাথে ধুন্ধুমার লড়াই

নিউজ ডেস্ক

আলুর ন্যায্য দাম না পেয়ে এবার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে বাংলার কৃষকদের। সোমবার বর্ধমান জেলায় আলুর আকাশছোঁয়া উৎপাদন খরচ আর তার বিপরীতে বাজারের তলানি দামের প্রতিবাদে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে উঠল জাতীয় সড়ক। বামপন্থী সংগঠন ‘সারা ভারত কৃষক সভা’-র নেতৃত্বে হাজার হাজার চাষি এদিন শক্তিগড়ের আমড়া মোড়ের কাছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক (NH-19) পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেন। রাজ্য সরকার ঘোষিত প্রতি কুইন্টাল ৯৫০ টাকা (সাড়ে ৯ টাকা কেজি) দামকে ‘মজা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে চাষিরা দাবি তুলেছেন অন্তত ১২০০ টাকা সহায়ক মূল্যের।

পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে রাস্তায় শুয়ে বিক্ষোভ

বিক্ষোভের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পুলিশি বাধা কোনো কাজেই আসেনি। উত্তেজিত চাষিরা পুলিশের তৈরি করা অস্থায়ী ব্যারিকেড অনায়াসেই ভেঙে ফেলেন। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে রাস্তার ওপর আলু ছড়িয়ে দিয়ে সেখানেই শুয়ে পড়েন শত শত কৃষক। এর ফলে কলকাতা ও দিল্লির সংযোগকারী এই ব্যস্ততম হাইওয়েতে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনীকে। দফায় দফায় পুলিশের সাথে কৃষকদের ধস্তাধস্তিতে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

কেন এই জনবিস্ফোরণ?

সিপিআইএম জেলা সম্পাদক সৈয়দ মহম্মদ হোসেন এবং কৃষক সভার নেতৃত্বদের দাবি, সার এবং বীজের দাম যে হারে বেড়েছে তাতে ৯.৫০ টাকা দরে আলু বিক্রি করলে চাষিদের গলায় দড়ি দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। তাঁদের ৮ দফা দাবির মধ্যে প্রধান হলো—

  • সরকারকে সরাসরি ১,২০০ টাকা কুইন্টাল দরে সব আলু কিনতে হবে।
  • কোল্ড স্টোরেজের ভাড়া কোনোভাবেই বাড়ানো চলবে না।
  • সার ও বীজের কালোবাজারি রুখতে হবে।

কৃষক নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার যদি অবিলম্বে তাঁদের এই ন্যায্য দাবিগুলো না মেনে নেয়, তবে এই আন্দোলন শুধু বর্ধমানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা দাবানলের মতো গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

সাময়িক স্বস্তি মিললেও কাটেনি আতঙ্ক

দীর্ঘক্ষণ স্লোগান আর বিক্ষোভ চলার পর পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের আশ্বাসে কৃষকরা আপাতত রাস্তা থেকে সরতে রাজি হন। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চাষিদের বক্তব্য পরিষ্কার, চাষের খরচটুকুও যদি ঘরে না আসে তবে তাঁরা আন্দোলন থেকে এক চুলও নড়বেন না। এখন দেখার বিষয়, নবান্ন এই আলু সংকটের সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *