২০২৬-এর লক্ষ্যে অভিষেকের মাস্টারস্ট্রোক! ৮৪টি সংরক্ষিত আসনে শুরু হচ্ছে তৃণমূলের মেগা অভিযান ‘তফসিলির সংলাপ’

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে কোমর বেঁধে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চ থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ‘তফসিলির সংলাপ’ নামক এক বিশাল জনসংযোগ কর্মসূচির সূচনা করেন। আগামী দুই মাস ব্যাপী রাজ্যের ৮৪টি সংরক্ষিত (SC/ST) বিধানসভা আসনে এই অভিযান চলবে।
অভিযানের মূল লক্ষ্য ও কর্মসূচি
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী ৫ মার্চ থেকে প্রচার গাড়ি রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যাবে। এই অভিযানের মাধ্যমে তৃণমূল মূলত দুটি বিষয় তুলে ধরবে:
- বিজেপি শাসিত রাজ্যের চিত্র: উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের মতো ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলোতে তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের ওপর হওয়া অত্যাচারের এনসিআরবি (NCRB) তথ্য জনগণের সামনে আনা হবে।
- রাজ্যের উন্নয়ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা (যেখানে SC/ST মহিলারা ১৭০০ টাকা পান), তার ব্যাপক প্রচার চালানো হবে।
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ
আম্বেদকরের কালারাম মন্দির আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করেন। তিনি বলেন, “যারা সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলে, তারাই দলিত ও আদিবাসীদের প্রধান শত্রু।” রাম মন্দিরের উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে আমন্ত্রণ না জানানোকে সমগ্র আদিবাসী সমাজের অপমান বলে দাবি করেন তিনি। বিজেপির রথযাত্রাকে ‘জমিদারদের শখ’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, যাদের পা মাটিতে পড়ে না, তারা সাধারণ মানুষের দুঃখ বুঝবে না।
কর্মীদের ৬০ দিনের ডেডলাইন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৬০ দিন কর্মীদের সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, বিজেপি যদি প্রমাণ করতে পারে গত পাঁচ বছরে বাংলার গরিবের ঘরের জন্য তারা এক পয়সাও দিয়েছে, তবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। বাংলার হকের টাকা কেউ আটকে রাখতে পারবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।